পাহাড় বা সমুদ্র নয়, গানের টানে সফর! জেন জি পর্যটকদের নয়া ঝোঁক মিউজিক ট্যুরিজম

পাহাড়ের বাঁকে সুরের মেলা। আর সেই গানের টানেই ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে দে দৌড়! একঘেয়ে দৈনন্দিন জীবন আর সাজানো-গোছানো পর্যটন কেন্দ্রকে আলবিদা জানিয়ে ভারতের জেন-জি মেতেছে এক নয়া উন্মাদনায়। সৈকত বা পাহাড়ের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপের চেয়ে তাঁদের বেশি টানছে মিউজিক ফেস্টিভ্যালের উন্মাদনা। গন্তব্য কোথায়—সে প্রশ্ন এখন গৌণ। কনসার্টের লাইন-আপ দেখে ঠিক হচ্ছে ভ্রমণের পরবর্তী ঠিকানা।
কী এই মিউজিক ট্যুরিজম?
ট্রাভেল ইটিনারারি তৈরির পুরনো ছক এখন অতীত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি তিন জন তরুণ পর্যটকের এক জন এখন প্রথাগত ছুটির বদলে মিউজিক ফেস্টিভ্যালকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। জঙ্গল, উপত্যকা কিংবা নদীর চরে খোলা আকাশের নীচে সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাওয়াটাই এখন ট্রাভেল গোল। উত্তর-পূর্ব ভারতের জিরো ফেস্টিভ্যাল বা চেরি ব্লসম থেকে শুরু করে দূর বিদেশের টুমোরোল্যান্ড—লাইভ মিউজিককে কেন্দ্র করে বদলে যাচ্ছে বেড়ানোর সংজ্ঞাটাই।
‘একলা’ চলো রে
উৎসবকেন্দ্রিক এই ভ্রমণের সিংহভাগ যাত্রীই তরুণ। ২১ থেকে ২৮ বছর বয়সিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। মজার বিষয় হল, সুরের টানে এই সফরে পা বাড়ানো পর্যটকদের প্রায় ৮০ শতাংশই একা ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। অচেনা মানুষের দলের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়াটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। গানে গানে শুরু হওয়া এই সফর শেষ পর্যন্ত এক আত্মিক যোগাযোগের ঠিকানা হয়ে উঠছে।

এই ধরনের সফরে সুবিধা কী?
এই ট্রিপগুলো শুধুমাত্র মঞ্চের গান-বাজনায় আটকে থাকছে না। পর্যটকরা একই সঙ্গে উপভোগ করছেন স্থানীয় সংস্কৃতি, ট্রেকিং, সেখানকার খাবার এবং ক্যাফে কালচার। পাঁচ থেকে আট রাতের এই সফরগুলোতে গুটিকয়েক মানুষের দল নিয়ে পাড়ি জমানো হয়। ফলে সঙ্গীত উৎসবের পাশাপাশি পুরো এলাকাটিকে নিজের মতো করে চিনে নেওয়ার সুযোগ মেলে।
এক নজরে পরিসংখ্যান
- মেগা মিউজিক ইভেন্ট ঘিরে বুকিং বেড়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ।
- উৎসবমুখী ভ্রমণের জন্য গড়ে ৪৫ থেকে ৬০ দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করছেন তরুণরা।
- উত্তর-পূর্ব ভারতের জিরো ফেস্টিভ্যালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
- ঘরোয়া এই ইভেন্টগুলোর ট্রিপ বাজেট শুরু হচ্ছে ২৫,০০০ টাকা থেকে।

সঙ্গীত পর্যটনের এই জোয়ার স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন হাওয়া দিচ্ছে। ক্যাফে, হোমস্টে এবং স্থানীয় গাইডদের আয়ের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। উৎসব কেবল মঞ্চে থেমে থাকছে না, সীমান্ত পেরিয়ে তা হয়ে উঠছে এক সার্বিক ট্রাভেল অভিজ্ঞতা।
শেয়ার
লিংক



