0%

লোবার জোড়া গোল, কাশীকে গোলের মালা পরিয়ে আইএসএলে ছুটছে ইস্টবেঙ্গলের জয়রথ

ইস্টবেঙ্গল: ৫ (র‍্যামিরেজ, বিষ্ণু, লোবা ২, জিলনস্কি)
ইন্টার কাশী: ১ (নুঙ্গা আত্মঘাতী)

আইএসএলে ছুটছে ইস্টবেঙ্গলের জয়রথ। চার্চিলকে হেলায় ওড়ানোর পর এবার বিদেশিহীন ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পাঁচতারা পারফরম্যান্স। পুরনো দল বলে কোনও রকম রেয়াত করলেন না লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল আকে লোবা, গোল পেলেন আরেক বিদেশি জিলনস্কিও। সামনে এসিএল ২-এ কঠিন পরীক্ষা। তার আগে পুণের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে বড় জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেবে ইস্টবেঙ্গলকে।

প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পরও প্রথম একাদশে একাধিক বদল করা হয়েছে। কারণ সামনে এসিএল ২-র ম্যাচ আছে। ডিফেন্সে দিয়েগো জিভুলিচকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হয়েছিল। এদিন হাবাসের প্রথম একাদশে শুরু থেকেই ছিলেন পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং ও একে লোবা। আর প্রত্যেকেই নিজেকে প্রমাণ করলেন। লাল-হলুদ ভক্তরা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন লোবার পারফরম্যান্সে। এখনও পুরোপুরি ফিট নন। তাতেও গতি, ভেদশক্তি ও জায়গার থাকার দক্ষতা নজরে পড়ার মতো। তাঁকে সামনে রেখেই শুরু থেকে ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল।

৮ মিনিটে প্রথম গোল র‍্যামিরেজের। নিঃসন্দেহে কাশীর রক্ষণে বিরাট ভুল ছিল। বক্সের মাথায় ঠিকভাবে ক্লিয়ারেন্স না হলে বিপক্ষ তার সুযোগ নেবেই। তবে র‍্যামিরেজ যেভাবে আলতো ছোঁয়ায় গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দিলেন, তা প্রশংসাযোগ্য। দ্বিতীয় গোল এল ১৬ মিনিটে। বাঁদিক থেকে বক্সের মধ্যে ঢুকে গোলে শট করেন। শটে তেমন জোর ছিল না। তবে কাশীর গোলকিপার আলবিনো গোমস সেটাও ভালোভাবে ধরতে পারলেন না। তাঁর হাতের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়।

৬ মিনিট পর লাল-হলুদ জার্সিতে প্রতীক্ষিত গোলটি পেলেন লোবা। পেনাল্টি থেকে কোনও ভুল করেননি আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার। তবে পেনাল্টি আদায়ের ক্ষেত্রে মূল কৃতিত্ব অবশ্য র‍্যামিরেজের। বক্সের মধ্যে ঢুকে বিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করান তিনি। তবে মাঝে কিছুটা তাল কাটে লালচুংনুঙ্গার ভুলে। গোটা ম্যাচেই তাঁকে কিছুটা ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। ২৮ মিনিটে নুঙ্গার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় কাশী। যদিও সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৫ মিনিটে বিপিনের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ৪-১ করেন লোবা। ফিনিশিং তো বটেই, প্রশংসা করতে হয় সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষমতারও।

 

দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পাননি লোবা। তাঁকে তুলে নামানো হয় লুকাস জিলনস্কিকে। ৮১ মিনিটে তিনিও ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পেলেন। মহম্মদ রশিদকেও তুলে নেন হাবাস। নাহলে হয়তো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতেন লাল-হলুদের অধিনায়ক। খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়ায় আক্রমণের সেই ঝাঁঝটাও হারায় ইস্টবেঙ্গল। তা সত্ত্বেও দু’ম্যাচে ৯ গোল। হজম করেছে মাত্র একটি গোল। আগের মরশুমে গোলপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত শিরোপা এনে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এবার চ্যাম্পিয়নের মতো জয়রথ ছুটছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker