0%

Operation Ragepill: সিঁদুরের পর অপারেশন ‘রেজ-পিল’! ফের বড় সাফল্য মোদী সরকারের

আবার একটা অপারেশন। এবং তাতেও বড় সাফল্য পেল মোদী সরকার। দেশজুড়ে শুরু অপারেশন ‘রেজ-পিল’। নেতৃত্বে খোদ অমিত শাহ। ভারতকে মাদক-মুক্ত করতে দেশজুড়ে NCB-র সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। অপারেশন চালিয়ে দেশ থেকে এই প্রথমবার উদ্ধার হল ‘জিহাদি’ ড্রাগ। এক-দু লাখ টাকা নয়, ১৮২ কোটি টাকার মাদক খুঁজে পেল NCB।

কী এই জিহাদি ড্রাগ বা ‘ক্যাপ্টাগন পিলস’?

৭ অক্টোবর ২০২৩

  • দক্ষিণ ইজরায়েলে হামলার আগে হামাস জঙ্গিদের দেওয়া হয় জিহাদি ড্রাগ
  • ফলাফল- নারকীয় হত্যালীলা চালায় জঙ্গিরা, নৃশংসতা দেখে শিউরে ওঠে মোসাদ

২০২৪ মস্কো অ্যাটাক

  • ISIS জঙ্গিরা মস্কোতে ১৪০ জনকে নির্বিচারে হত্যা করে এই মাদক নিয়ে

২০১৫ প্যারিস হামলা

  • প্যারিস জুড়ে ঠাণ্ডা মাথায় ধারাবাহিক হামলা ISIS জঙ্গিদের, নেপথ্যে সেই জিহাদি ড্রাগ

উপরের এই সবকটা হামলার আগে জঙ্গিরা নিয়েছিল জিহাদি ড্রাগ। কিন্তু কাকে বলে জিহাদি ড্রাগ? কোথায়-ই বা পাওয়া যায়? কারা এই মাদক সেবন করে? এসব নিয়ে আম ভারতীয় এতদিন মাথা ঘামাননি। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি ঘোষণার পর দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গেছে। ক্যাপ্টাগন নামের একধরণের রাসায়নিক পরিচিত ‘ড্রাগ অফ জিহাদ’ বলে। এতদিন এই ড্রাগ পাওয়া যেত সিরিয়া, আফ্রিকা, আফগানিস্তান বা হামাসের ডেরায়। কিন্তু এবার দিল্লি ও গুজরাটের বন্দর থেকে উদ্ধার হল এই ভয়ঙ্কর ড্রাগ। সবমিলিয়ে প্রায় ২২৭ কিলোগ্রাম ড্রাগ উদ্ধার করেছে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো। বিপুল এই মাদক উদ্ধারের জন্য NCB-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহ।

কেন একে জিহাদি ড্রাগ বলে? ২০২৩-এ সাদার্ন ইজরায়েলের নৃশংস হামলা চালানোর আগে হামাস জঙ্গিরা এই ড্রাগ সেবন করেছিল। এই ড্রাগ সেবনের পর হামাস জঙ্গিদের হত্যালীলার বহর দেখে শিউরে উঠেছিল মোসাদ। ২০১৫-এ প্যারিস হামলার সময় ISIS জঙ্গিরাও এই ড্রাগ সেবন করে। এই ড্রাগ উদ্দীপনা বাড়ায়। অভুক্ত শরীরেও দানবের শক্তি দেয় খানিকক্ষণের জন্য। ব্যাথা, ঘুম, খিদে-তেষ্টার মতো অনুভূতি উবে যায়। চিকিত্সকেরা বলেন, মানুষের শরীর থেকে আত্মাকে যেন কিছুক্ষনের জন্য আলাদা করে দেয় ক্যাপ্টাগন। ২০১০ থেকে ISIS জঙ্গিদের নিয়ম করে খাবারের পরিবর্তে এই ড্রাগ দেওয়া হয়। যাতে জঙ্গিরা খেতে বা ঘুমোতে না চায়, খুন করতে দ্বিধা না করে।

ষাটের দশকে ADHD, ডিপ্রেশন, ন্যারকোলেপ্সি-র চিকিৎসার জন্য ফেনেটিলিনের সিনথেটিক এই রূপ ব্যবহৃত হত। ৮০-র দশকের মধ্যে এই ড্রাগের অপব্যাবহার হু হু করে বাড়তে থাকে বিশ্ব জুড়ে। এই ড্রাগের নেশা করে মারধর, অত্যাচার চালাত নেশাড়ু-রা। রাষ্ট্রসংঘ শেষে বাধ্য হয়ে এই ড্রাগকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়াতে বিশেষত সিরিয়াতে জঙ্গিদের মধ্যে এই ড্রাগ ব্যাপক জনপ্রিয়।

এই ড্রাগ সেবনে কী হয়?

  • রক্তমাংসের মানুষ হয়ে ওঠে কিলিং মেশিন
  • বড় অপারেশনের আগে জঙ্গিরা এই মাদক ব্যবহার করে
  • এই মাদক নিলে ঘুম, খিদে ও ক্লান্তি ছাড়াই দিনের পর দিন লড়াই চালানো যায়
  • শরীরে খিদে, ব্যাথা, ভয়-সহ সব অনুভূতি মুছে যায়
  • দুষ্কৃতীরা আরও হিংস্র ও নৃশংস হয়ে ওঠে

আজ এই মাদক শুধু সিরিয়া বা আফ্রিকাতে নয়, আন্তর্জাতিক কালো বাজারেও কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ড্রাস্ট্রি জিহাদি ড্রাগের। যেখানেই জঙ্গিরা নাশকতা চালায়, সেখানে এই ড্রাগের চাহিদা হু হু করে বাড়ে। এখন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটিয়ে এই ড্রাগে মেশানো হয় অ্যামফেটামিন, ক্যাফিন-সহ অন্যান্য পদার্থ। ছোট ছোট ট্যাবলেট জঙ্গিরা পকেটে নিয়ে ঘোরে। এবার ভারতের মাটি থেকে কোটি কোটি টাকার এই ড্রাগ উদ্ধার তাই নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য, বলছেন অমিত শাহ। নারকোটিকস ব্যুরোর প্রশংসা করে তাঁর বক্তব্য, ড্রাগের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মোদী সরকারের। ১৮২ কোটি টাকার জিহাদি ড্রাগ উদ্ধার বড় সাফল্য। ভারতকে ট্রান্সজিট রুট হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। NCB সর্বদা মাদক পাচারের উপরে কড়া নজর রাখছে।

বাঁচোয়া এই যে, জিহাদি ড্রাগ ভারতে নয়, জেড্ডাহ-তে বিক্রির জন্য পাচার হচ্ছিল। নয়াদিল্লি ও গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে অভিযান চালিয়ে ২২৭ কিলোগ্রামেরও বেশি ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট ও ও পাউডার উদ্ধার হয়েছে। সিরিয়া থেকে ভারত হয়ে মধ্য প্রাচ্যে এই ড্রাগ পাঠানো হচ্ছিল। পাচারের অভিযোগে একজন সিরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker