অনুব্রতকে নিয়ে বিরাট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের! স্বস্তি নাকি চাপ বাড়ল তৃণমূল নেতার?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২১ সালের এক আর্থিক প্রতারণার মামলা সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। এবার সেই মামলাতেই বড় নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত। সোমবার তৃণমূল নেতার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেই সঙ্গেই বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেন তিনি।
অনুব্রতকে নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের | (Calcutta High Court)
এর আগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিন চেয়ে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। তবে সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর নিম্ন আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল নেতা।
আরও পড়ুনঃ রোজ মিলবে ৬০০ টাকা করে! ঝটপট এই সরকারি প্রকল্পে আবেদন সেরে ফেলার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
এদিনের শুনানিতে অনুব্রতর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনাটি ২০২১ সালের। এদিকে এফআইআর দায়ের হয়েছে ২০২৬ সালে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে পালাবদলের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটানোর জন্য তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর পুরনো ঘটনাকে হাতিয়ার করে মামলা সাজানো হয়েছে।
উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি ঘোষ বলেন, বেশ পুরনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি হয়েছে। এত বছর আগের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তদন্ত চলতে পারে। তবে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনও প্রয়োজনীয়তা দেখছে না আদালত। এরপরেই অনুব্রতর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন তিনি। তবে বেশ কিছু শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়।
বিচারপতি ঘোষ বলেন, তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অনুব্রতকে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে হবে ও আগামী দিনে প্রয়োজন অনুসারে তলব করলে হাজিরা দিতে হবে।
শুভেন্দু মণ্ডল নামে বোলপুরের এক বাসিন্দার দায়ের করা অভিযোগ ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। তিনি দাবি করেন, অনুব্রত ও তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ অনুগামী তাঁর প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর পাশাপাশি বিজেপি সমর্থক হওয়ার জন্য তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, ২০২১ সালে ঘটনাটি ঘটলেও সেই সময় পুলিশ তাঁর অভিযোগে কোনও গুরুত্ব দেয়নি। এবারের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদল হলে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
আগেই এই ঘটনায় গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। তবে সেখানে কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট।




