‘ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব’, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল হারতে বসলেও ফুরফুরে মেজাজে ট্রাম্প

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে জোর ধাক্কা মুখে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যকলাপে যারপরনাই ক্ষুব্ধ আমেরিকানরা। তবে দল হারের মুখে পড়লেও ফুরফুরে মেজাজে প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের দিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বললেন, আমেরিকার জনগণ যদি তাঁর উপর বিরক্ত হন, তবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে কোনও বাধা নেই তাঁর। সেখানে নাকি বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের জনসমর্থন প্রশ্ন ওঠে। বলা হয়, মানুষের কাছে ক্রমশ তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে। এর পালটা রসিকতা করেই ট্রাম্প বলেন, “ইজরায়েলে আমার ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমেরিকার মানুষ আমায় নিয়ে হতোদ্যম হয়ে পড়লে আমি ইজরায়েলে চলে যাব। এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।” এর পাশাপাশি দলের বেহাল অবস্থায় এদিন সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই নির্বাচনে ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি ব্যালটে আমার নাম থাকত তবে বিরাট জয় পেত রিপাবলিকান পার্টি।’
ট্রাম্প লেখেন, ‘এই নির্বাচনে ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি ব্যালটে আমার নাম থাকত তবে বিরাট জয় পেত রিপাবলিকান পার্টি।’
এদিকে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৪৫টি আসনে এগিয়ে আছে, যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে আছে ৩৪টি আসনে। ওহাইও, টেক্সাস ও আরকানসাসের মতো রিপাবলিকানের দখলে থাকা প্রদেশেও এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। সেই সঙ্গেই প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অফ রিপ্রেন্টেটিভস) অনেক আসনে তারা এগিয়ে, যেগুলিও রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলিনায় ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই একটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। এটাকে ভোট গণনার পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রথম বড় জয় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে? সত্যিই যদি শেষপর্যন্ত ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই তাদের হাতে এমন ক্ষমতা চলে আসবে, যার মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের অনেক পরিকল্পনা আটকে দিতে পারবে আইনি পথে। এছাড়া, তারা শুনানির আয়োজন করা, সমন জারি করা এবং তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও পেয়ে যাবে। তবে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা এবং সেনেটে ‘ফিলিবাস্টার’ (আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টির কৌশল)-এর কারণে বিষয়টা খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শেয়ার
লিংক



