সরকারি দফতরে অগ্নিবীরদের জন্য ২০% কোটা! বড় ঘোষণা যোগীর

লখনউ: উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অগ্নিবীরদের ( Agniveers )জন্য এক বড় ঘোষণা দিয়েছেন যা রাজ্যের হাজার হাজার যুবকের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গোন্ডার…
লখনউ: উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অগ্নিবীরদের ( Agniveers )জন্য এক বড় ঘোষণা দিয়েছেন যা রাজ্যের হাজার হাজার যুবকের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গোন্ডার এক জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে চার বছরের সামরিক সেবা শেষ করে ফিরে আসা অগ্নিবীরদের রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগে ২০ শতাংশ কোটা দেওয়া হবে এবং তাদের কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ করা হবে। পুলিশ, পিএসি, বন বিভাগ, হোমগার্ড, কারাগার বিভাগসহ অন্যান্য সরকারি দফতরে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
এই ঘোষণা শুনে অনেক পরিবারের চোখে আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে। অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করে ফিরে আসেন। কিন্তু চাকরির অনিশ্চয়তা তাদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় ছিল। যোগী সরকার সেই চিন্তা দূর করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অগ্নিবীররা ইতিমধ্যেই কঠোর প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। তাই তাদের আবার পরীক্ষার ঝামেলায় না ফেলে সরাসরি নিয়োগ দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
আরও দেখুনঃ জাকির নায়েককে ভারতে হস্তান্তর নয়! স্পষ্ট জানালো মালয়েশিয়া
এর আগে রাজ্য মন্ত্রিসভায়ও অগ্নিবীরদের ( Agniveers )জন্য কিছু সুবিধা অনুমোদিত হয়েছিল। পুলিশ, বন, কারাগার ও পরিবহন বিভাগের নিয়োগে ২০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং লিখিত ও শারীরিক পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শুধু মেডিক্যাল পরীক্ষা পাশ করলেই চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এখন সেই সুবিধা আরও বিস্তৃত করে সব বিভাগে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। বয়সসীমায়ও তিন বছরের ছাড় দেওয়া হয়েছে যাতে আরও বেশি সংখ্যক প্রাক্তন অগ্নিবীর সুযোগ পান।
রাজ্যের যুবসমাজের মধ্যে এই ঘোষণা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক অগ্নিবীরের পরিবার মনে করছেন যে চার বছর দেশের সেবা করার পর তাদের সন্তানরা এখন নিজেদের রাজ্যে সম্মানজনক চাকরি পাবেন। পুলিশ ও পিএসির মতো বিভাগে অভিজ্ঞ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যুবকদের যোগদান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
যোগী আদিত্যনাথ তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেছেন যে অগ্নিবীররা সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে আসবেন এবং তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে রাজ্যের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, এরা শুধু চাকরি পাবেন না, বরং সম্মানের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সেবায় যোগ দেবেন। এই পদক্ষেপকে তিনি যুবকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা চলছে। ( Agniveers )অনেকে এটিকে নির্বাচন পূর্ববর্তী এক জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি চাকরির সুযোগ বাড়ানোর এক বাস্তব পদক্ষেপ। উত্তর প্রদেশে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা এবং এমন ঘোষণা যুবকদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অগ্নিবীর প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশে ২০ শতাংশ কোটা অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় বেশি। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা এই ঘোষণাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয় কত দ্রুত এই নীতি বাস্তবায়িত হয় এবং কতজন অগ্নিবীর এর সুফল পান।



