চোরাচালান রুখতে গিয়ে আক্রান্ত বিএসএফ, ত্রিপুরায় জখম ৩ জওয়ান

আগরতলা: চোরাচালানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরে। আশাবাড়ি এলাকায় একদল…
আগরতলা: চোরাচালানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরে। আশাবাড়ি এলাকায় একদল চোরাকারবারির হামলায় অন্তত তিন বিএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মারধরের পাশাপাশি সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। বাহিনীর একটি সরকারি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির (বিওপি) অধীন ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর গেটের কাছাকাছি এই ঘটনা ঘটে। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বেআইনি সামগ্রী পাচারের চেষ্টা করছিল কয়েকজন বলে অভিযোগ। সেই সময় ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের কর্তব্যরত জওয়ানরা তাঁদের ধাওয়া করেন।
ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হেফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন বিএসএফ জওয়ানরা। অভিযোগ, এক জওয়ান লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পথ অবরোধ করেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন এক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট ও তাঁর দল উত্তেজিত জনতার মুখে পড়েন। তাঁদের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ।
জওয়ানদের মারধর, বন্দুক ছিনতাইয়ের চেষ্টা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এবং প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি আহত জওয়ানদের ঘিরে ধরে মারধর করছেন। তাঁদের মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এমনকী, জওয়ানদের সার্ভিস রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফের সরকারি গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। হামলার জায়গার ঠিক উল্টো দিকে একটি বাড়িতে লাগানো ক্যামেরায় পুরো ঘটনার কিছু অংশ ধরা পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ও বিএসএফ সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
হামলাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও ছিলেন?
সূত্রের দাবি, আশাবাড়ি এলাকায় থেকে সীমান্তপারের চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও এই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় এবং এই অভিযোগ এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়েই আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বক্সনগরে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিএসএফ কর্তারা।
বক্সনগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে খোঁজ চালানো হচ্ছে। আপাতত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে খবর। তবে সীমান্তে চোরাচালান রুখতে গিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের উপর এই হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৪৭ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন সাফল্য! টানা এক বছর মৃত্যুহীন সিআরপিএফ
২০২৭ র জানুয়ারী থেকেই চালু হচ্ছে বিমান ভাড়ায় নতুন নিয়ম



