সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? গর্ভধারণের আগে এই ৫ পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে জানুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? মা হওয়ার প্রস্তুতি কিন্তু শুরু হয় গর্ভধারণের খবর পাওয়ার পর থেকে নয়, তারও আগে। শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য গর্ভধারণের আগে থেকেই কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কোন ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে, তা জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। তবে সব সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োজনীয় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গর্ভধারণের আগে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি শরীরে কোনও পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফোলিক অ্যাসিড বা ফোলেট
গর্ভধারণের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম ফোলিক অ্যাসিড। এটি ভিটামিন বি৯-এর একটি রূপ। গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্নায়ুনালি গঠনে ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগে থেকেই ফোলিক অ্যাসিড নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। সাধারণত গর্ভধারণের অন্তত এক মাস আগে থেকে প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলিক অ্যাসিড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বিশেষ কিছু শারীরিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় মাত্রা আলাদা হতে পারে।
আয়রন
শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে এই খনিজ। গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ে, ফলে আয়রনের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। গর্ভধারণের আগে থেকেই আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা জরুরি। তবে পরীক্ষা না করিয়ে নিজে থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসক প্রয়োজন বুঝে তা নির্ধারণ করবেন।
ডিএইচএ বা ওমেগা-৩
ডিএইচএ এক ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ ডিএইচএ-র একটি প্রাকৃতিক উৎস। যাঁরা মাছ খান না বা খাদ্যাভ্যাসের কারণে পর্যাপ্ত ডিএইচএ পান না, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে বিকল্প উৎস বা সাপ্লিমেন্টের কথা ভাবা যেতে পারে।
আয়োডিন ও জিঙ্ক
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজনীয়। এই হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং গর্ভাবস্থায় শিশুর বিকাশের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কোষের স্বাভাবিক কাজকর্ম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনার সময় এই দুই পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে।
কোলিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে কোলিন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কোষের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যকারিতাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। ডিম, মাছ, মাংস এবং কিছু অন্যান্য খাবার থেকে কোলিন পাওয়া যায়। গর্ভধারণের আগে কোনও মাল্টিভিটামিন বেছে নেওয়ার সময় তাতে কোলিন-সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
কোন সাপ্লিমেন্ট বেছে নেবেন?
বাজারে প্রি-কনসেপশন বা গর্ভধারণের আগের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন মাল্টিভিটামিন ও প্রিনাটাল সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে Dame Health Pregnancy Support Plus, Conceive Plus, Trimacare 1 Advance, Carbamide Forte Prenatal Multivitamin এবং Vitabiotics-এর Pregnacare Original-এর মতো পণ্য রয়েছে। এগুলির উপাদান ও পুষ্টির মাত্রা এক নয়। তাই শুধু ব্র্যান্ডের নাম বা উপাদানের সংখ্যা দেখে কোনও সাপ্লিমেন্ট বেছে নেওয়া উচিত নয়।



