0%

৬ ডিসেম্বর NH-12 অবরোধের হুঁশিয়ারি, ৩০ কিমি রাস্তা বন্ধের দাবি হুমায়ুনের

রেজিনগর (মুর্শিদাবাদ): বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৪ বছর পূর্তিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক NH-12 অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান…

রেজিনগর (মুর্শিদাবাদ): বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৪ বছর পূর্তিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক NH-12 অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদের মারাদিঘিতে যেখানে তিনি ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন, সেখানেই জমায়েত করবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অবরোধ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে তাঁর দলের পরাজয়ের পর বেশ কিছুদিন কার্যত নীরব ছিলেন হুমায়ুন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে দুবাইয়ে গোল্ডেন ভিসা নিয়ে বসবাস করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সোমবার NH-12 অবরোধের ঘোষণা করে ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন এই বিধায়ক।

৬ ডিসেম্বর জমায়েতের ডাক

হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে স্মরণ করেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, মারাদিঘির নির্দিষ্ট জায়গায় লক্ষ লক্ষ মুসলিম জমায়েত হবেন। কৃষ্ণনগর, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া এবং বর্ধমান থেকেও তাঁর অনুগামীরা সেখানে পৌঁছবেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

হুমায়ুনের হুঁশিয়ারি, রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের আটকাতে পারে কি না, তা দেখা যাবে। তবে তাঁর দাবি, এই কর্মসূচিতে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করা হবে না।

৮৭ কোটি টাকায় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা

মারাদিঘিতে প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণ নিয়েও নতুন করে মুখ খুলেছেন হুমায়ুন কবির। তাঁর বক্তব্য, ১০ ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে আনুমানিক ৮৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হুমায়ুনের দাবি, মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নমাজ পড়তে পারবেন। পাশাপাশি ভবনের বেসমেন্টে ঘর তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভাড়ার বিনিময়ে থাকতে পারবেন।

হুমায়ুনের ঘোষণায় রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন রেজিনগরের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কররাও সরকার। তাঁর বক্তব্য, এলাকার মানুষ ‘বাবরি’ নামকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আর আগ্রহী নন। তিনি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করতে রাজি থাকলেও বাবরের নামে মসজিদ তৈরির অনুমতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা জয়ন্ত দাস এই বিতর্ককে বিজেপি ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির যৌথ কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ তৈরি করতেই এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আনা হচ্ছে।

এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খানের বক্তব্য, বাবরি মসজিদকে ঘিরে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে মুসলিমদের কাছে নিজেকে ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন হুমায়ুন কবির।

এদিকে, হুমায়ুনের অবরোধের ঘোষণার পর এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। ৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের বিশেষ নজর রয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker