৫ নভেম্বর বাংলার নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা শুভেন্দুর! জমি আইনে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। (Industrial Policy)রাজ্যের নতুন শিল্প নীতি আগামী ৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই নীতির অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। (Industrial Policy)রাজ্যের নতুন শিল্প নীতি আগামী ৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই নীতির অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে এর বিস্তারিত তুলে ধরবেন। এই নীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
জমি সংক্রান্ত বাধা দূর করতে সরকার নজর দিচ্ছে। (Industrial Policy)আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট এবং ল্যান্ড রিফর্মস অ্যাক্টে পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে কোম্পানিগুলোকে ৭৫ বিঘার বেশি জমি কেনার জন্য বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হয়। শহরাঞ্চলে খালি জমির সিলিং মাত্র সাড়ে সাত কাঠা। এই বিধিনিষেধ শিথিল হলে বড় প্রকল্পের জন্য জমি পাওয়া সহজ হবে। শিল্পের জন্য জমি আনলক করা এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আরও দেখুনঃ বাংলার শিল্পে নয়া দিগন্ত! মেখলিগঞ্জে জেলার দ্বিতীয় শিল্প কেন্দ্র
শিল্পপতিরাও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁরা চাইছেন প্রাকৃতিক গ্যাসকে শিল্প বৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হোক। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিদ্যুৎ ছাড় এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে ফুড পার্ক গড়ে তোলার দাবিও রয়েছে। জমি বরাদ্দের সংস্কার, সুদের ভর্তুকি, এসজিএসটি ফেরত, ইপিএফ সহায়তা, লজিস্টিক্স পরিকাঠামো এবং শিল্প-সংযুক্ত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসবে। উৎপাদন খাত চাঙা হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জেলাগুলোতে শিল্প গড়ে উঠলে আঞ্চলিক ভারসাম্য আসবে। সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা থাকতে পারে।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পপতিরা জমি ও অনুমোদনের জটিলতার কথা বলে আসছিলেন। নতুন নীতিতে সেই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতা শিল্পের খরচ কমাতে সাহায্য করবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বিশেষ ছাড় দিলে কৃষিভিত্তিক শিল্প বাড়বে।
লজিস্টিক্স পরিকাঠামো উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য পরিবহন সহজ হলে শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়বে। দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা উপকৃত হবেন। সুদের ভর্তুকি ও এসজিএসটি ফেরত উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ কমাবে।
৫ নভেম্বর নীতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা হস্তান্তরের কর্মসূচিও থাকছে। কালীপুজো ও দিওয়ালির আগে এই ঘোষণা রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্প মহল আশা করছে, নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ আবার শিল্প মানচিত্রে জায়গা করে নেবে।
জমি আইন সংস্কার হলে বড় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। (Industrial Policy)শহরাঞ্চলে খালি জমি ব্যবহারের সুযোগ বাড়লে অবকাঠামো প্রকল্পও এগোবে। সরকারের এই উদ্যোগ শিল্প, কৃষি ও কর্মসংস্থানের সমন্বয় ঘটাতে পারে। উদ্যোক্তারা এখন অপেক্ষায় আছেন ৫ নভেম্বরের ঘোষণার। সেদিন বিস্তারিত জানা গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।



