দেব দীপাবলিতে বারাণসীতে নৈস্বর্গিক আবহ! প্রথমবারের প্ল্যান হলে মাথায় রাখুন এই ৫ বিষয়

চোখের সামনে সারি সারি প্রদীপের শিখায় নদীঘাট আলোকিত হতে দেখা—এ এক অনন্য অনুভূতি। আশিটিরও বেশি ঘাটের লাখো প্রদীপের আলো, সঙ্গে গঙ্গার বুকে শঙ্খধ্বনি আর আরতি। এমন অপরূপ দৃশ্য না দেখলে জীবন যেন-বা বৃথা! আগামী ২৪ নভেম্বর এগারো লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপে সেজে উঠবে কাশীর ঘাটগুলি। লেজার শো থেকে গ্রিন বাজি—কী নেই এই আলোর উৎসবে!
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস মতে, কার্তিক পূর্ণিমার এই পুণ্য তিথিতে স্বয়ং দেবতারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন বারাণসীর গঙ্গায় স্নান করতে। তা ছাড়া এই দিনেই মহাদেব বধ করেছিলেন রাক্ষস ত্রিপুরাসুরকে। তাই একে বলা হয় ত্রিপুরারী পূর্ণিমা। দীপাবলির ঠিক ১৫ দিন পর উদযাপিত এই উৎসবে বিশ্বনাথের শহর যেন এক মায়াবী আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তবে অযোধ্যায় রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তন আর এই উৎসব এক নয়। এ কথা মাথায় রাখা দরকার। এটি সম্পূর্ণ আলাদা এক ভক্তির উদযাপন, যা ভারতের দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত স্বাক্ষর বহন করে।

শিবের নগরীতে যাওয়ার আগে কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমবার বারাণসী গেলে যে ৫টি জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবেন, তা দেখে নিন এক নজরে—
১. আগে থেকেই বুকিং সারুন
উৎসবের দিনগুলোতে ঘাটের দুধারে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে হোটেল বা হোমস্টে বুকিং আগে থেকেই করে নিন। আর মাঝগঙ্গা থেকে প্রদীপের আলোয় ঝলমলে শহর দেখতে চাইলে নৌকা বা বোট বুকিংও সেরে রাখুন অনলাইনে।
২. হাতে কিছুটা সময় নিয়ে বের হোন
দূর-দূরান্ত থেকে আসেন পর্যটক আর আলোকচিত্রীরা। ভিড় সামলে সন্ধ্যার সময় ঘাটের আলোর রোশনাই উপভোগ করতে হলে সূর্যাস্তের আগেই পৌঁছে যান। দেরি করলে পছন্দমতো জায়গা পাওয়া মুশকিল হবে।
৩. কোন ঘাটে কী দেখবেন?
সব ঘাট তো আর এক রকম নয়! দশাশ্বমেধ ঘাটের মহাশঙ্খধ্বনি ও ছন্দোবদ্ধ আরতি প্রথম দর্শনার্থীদের মোহিত করবেই। একটু শান্ত পরিবেশে আলোকসজ্জা দেখতে চাইলে বেছে নিতে পারেন অসি ঘাট। আর যাঁরা প্রতিটা মুহূর্ত লেন্সবন্দি করতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘাট একদম যথাযথ।
৪. একদিন আগে পৌঁছানোই বুদ্ধিমানের কাজ
উৎসবের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি। উৎসবের অন্তত এক বা দু’দিন আগে শহরে পৌঁছে যাওয়া ভালো। এতে তাড়াহুড়ো যেমন কমবে, তেমনই বারাণসীর আসল মেজাজটা শান্ত মাথায় উপভোগ করতে পারবেন।

৫. আরামদায়ক পোশাক আর জুতোর জুড়ি মেলা ভার।
ঘাট চত্বরে একটানা অনেকটা হাঁটতে হবে। তাই ফ্যাশনের চেয়ে আরামের কথা আগে ভাবুন। পরনে থাকুক আরামদায়ক পোশাক আর হাঁটার উপযোগী উপযুক্ত জুতো।

বারাণসী এলে আর কী কী দেখবেন?
শুধু ঘাটে ঘুরে বেড়ানোই শেষ কথা নয়। হাতে সময় থাকলে লস্যি, কচুরির মতো স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন! ঘুরে নিতে পারেন সারনাথ, অযোধ্যা কিংবা ত্রিলোচন মহাদেব ও কেদারেশ্বরের মতো প্রাচীন মন্দিরগুলোও। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দেব দীপাবলির এই সফর আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবেই।
শেয়ার
লিংক



