0%

‘প্রতিবাদের নামে অনির্দিষ্টকাল রাস্তা দখল করা যায় না!’ কড়া মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। (Supreme Court)কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ করে…

নয়াদিল্লি: গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। (Supreme Court)কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া যায় কি? এই প্রশ্ন ঘিরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও জায়গা অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করে রাখা যায় না। (Supreme Court)কারণ, প্রতিবাদ করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই অন্যদেরও নিজেদের দাবি জানানোর এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।

শীর্ষ আদালতে এদিন দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ এবং তার জেরে সাধারণ মানুষের সমস্যার বিষয়টি উঠে আসে। গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দল এবং অন্যান্য সংগঠনের তরফে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল।

আরও দেখুনঃ অনির্দিষ্টকাল জায়গা দখল করে রাখা যায় না, দিল্লির বিক্ষোভ বন্ধের আর্জিতে কেন্দ্রকে সুপ্রিম নোটিস

সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং বিক্ষোভের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আদালতে মামলা হয়। বিক্ষোভের জেরে পুলিশের পদক্ষেপ, ব্যাপক ধরপাকড়, পুলিশি বলপ্রয়োগ, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার মতো অভিযোগও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কোনও একটি জায়গা চিরকাল দখল করে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, সেখানে অন্য প্রতিবাদকারীরাও আসতে পারেন। কৃষক কিংবা আইনজীবীরা তাঁদের দাবি নিয়ে কোথায় যাবেন? প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন কোনও জায়গা ব্যবহার করলে অন্যদের প্রতিবাদ জানানোর সুযোগও বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে বলে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই মামলার সূত্রপাত মূলত দিল্লির ব্যবসায়ীদের অভিযোগ থেকে। তাঁদের দাবি, লাগাতার বিক্ষোভের কারণে যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে। দোকানপাটে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গিয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতির ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই সমস্যার সমাধান চেয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

আদালতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁদের আইনজীবী পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিক্ষোভস্থলের আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের বসবাস। অথচ প্রতিবাদের কারণে সমস্ত দোকান বন্ধ হয়ে রয়েছে।

এমনকী দিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসেও কার্যত জনমানবহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের কারণে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, সাধারণ বাসিন্দা এবং এলাকার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে জানায়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্যোক্তাদেরও মামলায় পক্ষভুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ, যাঁরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যও আদালতের সামনে আসা প্রয়োজন। কারণ, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে যে প্রভাব পড়েছে, তার দায় এবং পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র বুঝতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা জরুরি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ আইনজীবী তুষার মেহতা।(Supreme Court) তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যদি প্রতিবাদের ডাক দেয়, তাহলে সেই কর্মসূচির পরিণতির দায়িত্বও তাদের নিতে হবে। প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও তার ফলে অন্য নাগরিকদের জীবনযাত্রা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না বলেই তাঁর বক্তব্য।

উল্লেখ্য, ভারতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু সেই অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাফেরা, জীবিকা এবং ব্যবসা করার অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ।(Supreme Court) এই দুই অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসন ও আদালতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দিল্লির মতো ব্যস্ত শহরে কোনও এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ চললে তার প্রভাব পড়ে যান চলাচল, গণপরিবহণ, দোকানপাট এবং আশপাশের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে।

সুপ্রিম কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমা এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আদালতের এই মন্তব্যকে প্রতিবাদের অধিকার খারিজ করা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরং কোনও একটি গোষ্ঠীর আন্দোলনের কারণে অন্যদের অধিকার যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিক্ষোভের আয়োজক এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker