দিক পরিবর্তনে সক্ষম! ওড়িশা থেকে শত্রুঘাতী ‘প্রলয়ের’ উৎক্ষেপণ সফল

নয়াদিল্লি: ভারত সফলভাবে একটি স্বদেশি কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (Pralay Missile)উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ওডিশা উপকূলের একটি প্রতিরক্ষা সুবিধা থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। ডিআরডিও উন্নয়ন করা…
নয়াদিল্লি: ভারত সফলভাবে একটি স্বদেশি কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (Pralay Missile)উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ওডিশা উপকূলের একটি প্রতিরক্ষা সুবিধা থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। ডিআরডিও উন্নয়ন করা এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। পরীক্ষার আগে ৫৯৫ কিলোমিটার এলাকার জন্য নোটম জারি করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রলয় নামে পরিচিত। (Pralay Missile)এটি সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে কম উচ্চতায় উড়তে পারে এবং মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করে এবং সব লক্ষ্য পূরণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনও চলছে।
আরও দেখুনঃ ফের মোদী বিরোধী এজেন্ডায় ভারতীয় জেন জি দের উস্কাতে রাহুলের বিদেশ যাত্রা
পরীক্ষার আগে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টেস্ট রেঞ্জের দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ওডিশার চাঁদিপুর ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে নিয়মিত এ ধরনের পরীক্ষা হয়। প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রটি সলিড প্রপেল্যান্টচালিত এবং উন্নত গাইডেন্স ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সজ্জিত। এটি ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে পারে। পেলোড কমিয়ে দিলে পাল্লা আরও বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে। সীমান্ত এলাকায় দ্রুত আঘাত হানার ক্ষমতা থাকবে। বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে পারায় এটি নমনীয় ব্যবহারযোগ্য। আগেও প্রলয়ের সফল পরীক্ষা হয়েছে। ইউজার ট্রায়ালেও এটি সফল হয়েছে। এবারের পরীক্ষা সেই ধারাবাহিকতাকেই এগিয়ে নিয়ে গেছে।
স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করে।(Pralay Missile) ডিআরডিওর বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এর ওপর কাজ করেছেন। সফল পরীক্ষার পর এটিকে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে। প্রতিরক্ষা মহল এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
ওডিশা উপকূল থেকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। প্রলয়ের মতো কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কম উচ্চতায় উড়ে এবং দিক পরিবর্তন করে এটি শত্রুর রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষমতা কয়েকটি দেশের হাতেই আছে।




