দুবাইতে বসে বুনেছিল মাদকের জাল! গুজরাট ATS র হাতে গ্রেফতার কুখ্যাত সেলিম ডোলা

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য (Salim Dola)পেল গুজরাতের সন্ত্রাসদমন শাখা বা অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা কুখ্যাত…
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য (Salim Dola)পেল গুজরাতের সন্ত্রাসদমন শাখা বা অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা কুখ্যাত মাদক পাচারকারী সেলিম ইসমাইল ডোলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২০২২ সালে গুজরাতের ভদোদরা জেলার সিন্ধরোট গ্রামে একটি গোপন মাদক তৈরির কারখানার হদিশ পাওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন তিনি। (Salim Dola)অভিযোগ, দেশের বাইরে বসেই ওই বেআইনি মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন সেলিম। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের সাহায্যও নেয় গুজরাত পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় তদন্তকারী দল।
আরও দেখুনঃ দিক পরিবর্তনে সক্ষম! ওড়িশা থেকে শত্রুঘাতী ‘প্রলয়ের’ উৎক্ষেপণ সফল
এই গ্রেফতারির পিছনে রয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের একটি বড় অভিযান। ভদোদরা জেলার সিন্ধরোট গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন মেথাডোন তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকে প্রায় ৮৮ কেজি নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪৩৮ কোটি টাকা।
সেই ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, এই কারখানার সঙ্গে যুক্ত মাদক পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু গুজরাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বাইরেও এই চক্রের যোগাযোগ থাকার সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের নজরে আসে সেলিম ইসমাইল ডোলার নাম।
পুলিশের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই সেলিম বিদেশে বসে নিজের বেআইনি ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক স্তরে তল্লাশি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়।
বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ৩১ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে গুজরাত ATS। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক কারবারের অন্দরমহলের তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সেলিম ডোলার অপরাধজগতের সঙ্গে যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির নথি অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশক থেকেই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত মুখ ইকবাল মির্চির হয়ে বেআইনি মাদক পরিবহণের কাজ করতেন বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নিজের আন্তর্জাতিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক তৈরি করেন তিনি। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক পাচার করা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সেলিমের মাদক পাচারের কৌশল ছিল বেশ পরিকল্পিত। বৈধ পণ্য রফতানির আড়ালে বিদেশে পাঠানো হত নিষিদ্ধ মাদক। (Salim Dola)বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কন্টেনারের মধ্যে লুকিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন দুবাইয়ের মতো জায়গায় আত্মগোপন করে থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সময়ে দেশের একাধিক তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছেন সেলিম। মুম্বই পুলিশ, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক পাচার ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত করেছে। চরস, ফেন্টানিল এবং মেফেড্রোনের মতো বিপজ্জনক মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধ এবং বেআইনি অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কঠোর আইনের আওতায়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার গুজরাত ATS-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শুধু সিন্ধরোটের মাদক কারখানার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই নয়, এই কারবারের পিছনে থাকা গোটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান করতে চাইছে পুলিশ। কোথা থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আসত, কারা সেগুলি সরবরাহ করত এবং তৈরি হওয়া মাদক কীভাবে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হত, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন আধিকারিকরা।
পাশাপাশি এই চক্রের আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত চলছে। মাদক বিক্রির বিপুল টাকা কোন পথে বিভিন্ন দেশে পৌঁছত, হাওলা বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা সহযোগীদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের বাইরে থাকা কোনও পাচারকারী বা সরবরাহকারী এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।



