উজবেকিস্তানে উচ্চশিক্ষা, বিশেষত চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে মানসম্মত শিক্ষা পান, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর : উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার জন্য উজবেকিস্তানে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে মানসম্মত শিক্ষা পান, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে উদ্যোগী। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে দ্বি-সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উজবেকিস্তান সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ভারত। এ বিষয়ে তাসখন্দে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) তরফেও একাধিক পরামর্শ ও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
উজবেকিস্তানে এমবিবিএস পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়াদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, শুধু উজবেকিস্তান নয়, বিদেশের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাশাস্ত্র-সহ অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের জন্য জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করেছে। পড়ুয়াদের সেই নির্দেশিকাগুলি ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উজবেকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা পান এবং ভারতের জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাঁদের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে ভারত ও উজবেকিস্তান—উভয় দেশেই যাতে অসাধু চক্রের হাতে ভারতীয় পড়ুয়ারা প্রতারিত বা শোষিত না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে উজবেকিস্তানে স্নাতক স্তরে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে ইচ্ছুক ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। কমিশন জানিয়েছিল, বিদেশের বেশ কিছু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভারতীয় পড়ুয়ারা ভর্তি হলেও সেই প্রতিষ্ঠানগুলির পাঠ্যক্রম, শিক্ষার সময়সীমা এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ভারতের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের অননুমোদিত মেডিক্যাল কলেজ এবং নিয়মবহির্ভূত বিদেশি শিক্ষাক্রমে ভর্তি না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে কমিশন। ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও শিক্ষার মান যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন জানিয়েছে, কোর্সের মেয়াদ, শিক্ষার মাধ্যম, পাঠ্যক্রম, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপ বা ক্লার্কশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম ঘটলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের ভারতে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।



