0%

আখেরের ন্যায্য দাম নিয়ে কর্ণাটকের কৃষকদের চূড়ান্ত সময়সীমা, বৃহত্তর ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বেঙ্গালুরু, ৪ নভেম্বর : আখের ন্যায্য দাম নির্ধারণের দাবিতে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার কৃষকরা রাজ্য সরকারকে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে সরকার সন্তোষজনক দাম ঘোষণা না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি জেল ভরো কর্মসূচি আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার গণপূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী তথা বেলাগাভি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলির নেতৃত্বে দু’দফা বৈঠক হলেও আখকল মালিক ও কৃষকদের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং কৃষকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কথা বিবেচনা করে বুধবার ফের আখকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মন্ত্রী।

কৃষক নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সন্তোষজনক দাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। আখকল মালিকরা প্রতি টন আখের জন্য ৩,৫০০ টাকা দিতে রাজি হলেও সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, আখকল মালিকদের প্রতি টন আখের জন্য ৪,৫০০ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে দিতে হবে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা ভর্তুকি। অর্থাৎ প্রতি টন আখের জন্য তাঁদের মোট দাবি ৫,৫০০ টাকা।

কৃষক নেতা চুন্নাপ্পা পুজারি বলেন, কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া বারবার বৈঠক করে লাভ নেই। প্রতি টন আখের জন্য ৩,৫০০ টাকার প্রস্তাব তাঁরা মেনে নেবেন না। রাজ্যের তরফে ১,০০০ টাকা ভর্তুকি ঘোষণা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কাছে দাবি জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি উপেক্ষা করা হলে সরকারকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সমস্যা সমাধান না হলে কর্ণাটক বিধানসভার আসন্ন শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন বৃহত্তর আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে সরকারকে বলে সতর্ক করেছেন কৃষক নেতা।

মহীশূর ও মান্ড্য জেলাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। মহীশূরে কৃষকরা জেলা শাসকের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, মান্ড্যতে আখচাষিদের সঙ্গে কন্নড় ভাষার অধিকার আন্দোলনের কর্মীরাও জেলা শাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন তাঁরা।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আখের দাম বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হয়েছে। কৃষকরা পদযাত্রা, জাতীয় সড়ক অবরোধ, প্রতিবাদ মিছিল এবং রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে বেশি দাম দেওয়ার দাবিতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুনে-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন তাঁরা।

গত ২৬ অক্টোবর বেলাগাভির সুবর্ণ বিধান সৌধে রাজ্য সরকার, আখকল মালিক এবং কৃষক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ওই বৈঠকে সরকার আখকল মালিকদের প্রতি টনে অতিরিক্ত ২৫০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বেশ কয়েকটি আখকল কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ।

প্রতি টন আখের জন্য ৫,৫০০ টাকার দাবির পাশাপাশি চিনির ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) প্রতি কেজিতে ৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করার দাবিও জানিয়েছেন কৃষক সংগঠনগুলি। এছাড়া ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য (এফআরপি) পুনর্নির্ধারণ, ১৪ দিনের মধ্যে আখের দাম পরিশোধ এবং একটি সুসংহত চিনি নীতি প্রণয়নের দাবিও উঠেছে।

জেল ভরো কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকরা ইতিমধ্যেই ‘প্রিজনার নম্বর ৫৫০০’ লেখা টি-শার্ট পরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আখের প্রতি টনের জন্য ৫,৫০০ টাকা দামের দাবিকে সামনে রেখে তাঁরা বেলাগাভির হিন্দালগা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে মিছিলও করেন।

আগামী ৬ নভেম্বর বেঙ্গালুরুতে বৃহত্তর কৃষক সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর গ্রামস্তরে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সরকার দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে গণহারে জেল ভরো আন্দোলন শুরু করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষক নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, শীতকালীন অধিবেশনের সময় আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে।

বুধবার দুপুর ১টার সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই সতীশ জারকিহোলি ও আখকল মালিকদের মধ্যে প্রস্তাবিত বৈঠকের দিকে নজর বাড়ছে। আখকল মালিকদের প্রস্তাবিত দাম এবং কৃষকদের দাবির মধ্যে ব্যবধান মিটিয়ে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আগেই সমাধান খুঁজে বের করাই এখন রাজ্য সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker