0%

রনজিতে জয়রথ থমকে যাওয়ার মুখে! মহারাষ্ট্র ম্যাচে হার বাঁচাতে বাংলার ভরসা পোড়েল

রনজিতে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাংলার জয়রথ থমকে যাওয়ার মুখে। ইডেনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। এরপর বোলারদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল বঙ্গব্রিগেড। মহম্মদ শামি, শাহবাজ আহমেদ, মহম্মদ কাইফরা আঁটসাঁট বোলিং করলেও ৭৫ রানের লিড নেয় পৃথ্বী শ-র দল। এদিকে তৃতীয় দিনের শেষে বাংলা ৭৬ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে। আপাতত লিড মাত্র ১ রানের। ফলে টানা চার জয়ের সম্ভাবনা এখন বিশ বাঁও জলে। বরং লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের সামনে হারের ভ্রূকুটি। এমনকী ম্যাচ বাঁচাতে গেলেও ‘মিরাকল’ কিছু করতে হবে।

ছবি অপ্রতিম পাল।

তৃতীয় দিনের খেলা বৃষ্টি ও খারাপ আলোর কারণে যথাসময়ে শুরুই হল না। খেলা শুরু হল যখন, তখন সকাল গড়িয়ে দুপুর। ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রানে শুরু করা মহারাষ্ট্র আরও ১৪ রান যোগ করে অলআউট হয়ে যায়। প্রদীপ দাধেকে (২৭) ফেরান মহম্মদ শামি। সব মিলিয়ে তাঁর শিকার ৩৭ রানে ৪ উইকেট। তাঁর ভাই কাইফ নিলেন ৩ উইকেট। শাহবাজ (২) ও সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১) মিলে তুলে নিলেন ৩টি করে উইকেট। তনয় সাঙ্ঘাভি অপরাজিত থাকলেন ৬০ রানে। জবাবে বঙ্গতারকাদের কাছে লড়াইয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাঁদের আশা পূরণ হয়নি।

ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ৯ রানের বেশি করতে পারলেন না। সুদীপ ঘরামি ফিরে গেলেন ১২ রানে। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় রানের খাতাই খুললেন না। লড়ছিলেন অঙ্কুর পাল। পড়ন্ত বেলায় দলকে আরও বিপদে ফেলে বাংলার ওপেনারের ইনিংস সাঙ্গ হল ৩২ রানে। অপরাজিত রয়েছেন অভিষেক পোড়েল। ম্যাচ বাঁচাতে গেলে তাঁর উপরেই ভরসা। প্রথম ইনিংসে ৫৪ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁর ব্যাট ঝলসে উঠবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে বৃহস্পতিবার গোটা ম্যাচ খেলা হলে বাংলার দিকেও ম্যাচ ঝুঁকতে পারে। কিন্তু তার জন্য অন্তত ১৫০-১৬০ রানের লিড দরকার। কাজটা কঠিন। কিন্তু ক্রিকেটে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। তবে ড্র করতে পারলে ১ পয়েন্ট আসবে বাংলার ঝুলিতে। হেরে পুরো পয়েন্ট খোয়ানোর চেয়ে এক পয়েন্ট নেহাত মন্দ নয়। শেষ দিন উইকেট কামড়ে পড়ে থাকার সংকল্প নিয়ে নামতে হবে বঙ্গ ব্যাটারদের।

ছবি অপ্রতিম পাল।

উল্লেখ্য, টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর আর সামলে উঠতে পারেনি বাংলা। কোনও মতে ১৪৩ রান তুলে গুটিয়ে যান অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। আশা ছিল, বাংলার শক্তিশালী বোলিং প্রত্যাঘাত করবে। প্রথম দিনের শেষে দু’উইকেট তুলে নেন শামি। দ্বিতীয় দিনের শুরুটা খারাপ হয়নি। যোগ্য সঙ্গ দেন শাহবাজ আহমেদও। স্পিন জাদুতে তিন উইকেট তুলে নেন। মহম্মদ কাইফ ও সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের শিকার একটি করে। কিন্তু লাভের লাভ হল কোথায়? লাঞ্চের পর রীতিমতো আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন তনয় সাঙ্ঘাভি ও রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকার। দু’জনের জুটিতে উঠে যায় ৪২ রান। শেষ উইকেটেও ওঠে ৬০ রান। বলা চলে, এখানেই পিছিয়ে পড়ে বাংলা। প্রথম দিন থেকেই ইডেনে বাদ সাধছে আবহাওয়া। প্রত্যেক দিন মন্দ আলোয় প্রায় ১ ঘণ্টা আগে ম্যাচ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর বোর্ডে ৭৬/৪।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker