মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স তদন্তে অনুমোদন কেরল সরকারের

তিরুবনন্তপুরম, ৪ নভেম্বর : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ভিজিল্যান্স তদন্তের অনুমোদন দিল কেরল সরকার। ২০০৬ সালে কেরলের পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালীন সরকারি ঠিকাদারি বিল ছাড়ার বিনিময়ে ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা জানান, মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনের সঙ্গে পরামর্শের পর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৭(এ) ধারায় তদন্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে রাজ্যের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ভিএসিবি) আইন অনুযায়ী তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।
ঠিকাদার ভি ও সাজনের অভিযোগ এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাজনের দাবি, কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের একটি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত সংস্থা পাথিবেলের বকেয়া বিল ছাড়ার জন্য মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিনের কাছে ২ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমার।
লি সি বিন পরবর্তীকালে আত্মহত্যা করেন। তিনি পাথিবেল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, সাজন ওই সংস্থার সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চেন্নিথালা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ভিজিল্যান্স ব্যুরো তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থাকলেও তাঁর পূর্ববর্তী কর্মজীবনের অভিযোগের তদন্তে কোনও বাধা নেই বলে স্পষ্ট করেন চেন্নিথালা। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর বর্তমান পদের সঙ্গে যুক্ত সুরক্ষা ওই পদে থাকাকালীন কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পূর্ত সচিব থাকাকালীন তাঁর কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নয়।
এখন তদন্ত কীভাবে এগোবে, তা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সাজন এর আগে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জ্ঞানেশ কুমার পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালীন পাথিবেল সংস্থার বিল আটকে রেখেছিলেন এবং তা ছাড়ার বিনিময়ে ২ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁর দাবি, বকেয়া টাকা না পাওয়ায় লি সি বিন মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপে ছিলেন এবং তাঁকে এই ঘুষ দাবির বিষয়টি জানিয়েছিলেন। লি সি বিন সাজনের বাড়ির কাছেই চাদায়ামঙ্গলম এলাকায় থাকতেন।
সাজন আরও অভিযোগ করেন, এর আগে এই বিষয়ে যে ভিজিল্যান্স তদন্ত হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানেশ কুমারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেরল সরকারের এই তদন্তের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এবার আইন মেনে তদন্তের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে ভিজিল্যান্স ব্যুরো।



