0%

কাজে এল না নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি! মধ্যবর্তী নির্বাচনে লজ্জার হার ট্রাম্পের পার্টির

সবদিক নিউজ:‘অন্নপূর্ণা’র ধাঁচে নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষরক্ষা হল না। ৫ হাজার ডলারের আর্থিক টোপ দেখিয়েও মার্কিন ভোটারদের মন জয় করতে পারলেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বরং নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়ে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলিকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন আমেরিকার নাগরিকরা। তারই প্রতিফলন দেখা গেল মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি (Republican Party)। অন্য দিকে, দুই কক্ষেই এগিয়ে গেল ডেমোক্র্যাটরা (Demcrat)। ফলে নির্বাচনের আগে আর্থিক সুবিধার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, তা ভোটারদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মার্কিন মুলুকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে গোহারা হারল ট্রাম্পের (Donald Trump) রিপাবলিকান পার্টি:

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের (Donald Trump); অন্যতম বড় হাতিয়ার ছিল ‘৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি’। তিনি জানিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা যদি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস, দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। ভোটের ঠিক আগের দিনও একটি ভিডিও বার্তায় এই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে সাধারণ মানুষের পকেটে পৌঁছে যাবে ওই অর্থ। এই আর্থিক সুবিধাকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 ট্রাম্পের নিশানায় ইজরায়েল! বন্ধ হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সাহায্য, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান কী ভাবে আসবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লক্ষ। প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হতে পারে ১ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে প্রথমে স্পষ্ট কোনও হিসাব দেননি ট্রাম্প। পরে অবশ্য তাঁর দাবি ছিল, আমদানি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্থ ব্যবহার করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা সম্ভব। কিন্তু শুধু নগদ অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে ভোটারদের মন জয় করা সম্ভব নয়, নির্বাচনের ফলাফল যেন সেই বার্তাই দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলি। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও আমেরিকার জড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও একাংশের নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অন্য দিকে, মেডিকেড এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত মহিলা ভোটারদের একাংশের বক্তব্য ছিল, সাময়িক ভাবে ৫ হাজার ডলার হাতে পাওয়ার চেয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থান, নিয়ন্ত্রণে থাকা মূল্যবৃদ্ধি এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেক বেশি জরুরি। দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 ভারত-পাক সীমান্তের কাছে একী কাণ্ড! যাত্রীবাহী ট্রেন যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেললাইনে বিস্ফোরণ

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। ১০০ আসনের সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, সেখানে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার সংখ্যা ৪২। অন্য দিকে, ৪৩৫ আসনের হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা ২২৪টি এবং রিপাবলিকানরা ১৩৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। যদিও কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল তখনও প্রকাশিত হয়নি। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে সেনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭টি। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ছিল ২১৮, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪। ফলে এই ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নগদ অর্থের প্রতিশ্রুতির বদলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্থিতিশীল প্রশাসনকেই যে ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল থেকে সেই ইঙ্গিতই মিলছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker