ফের বিক্ষোভের আগুন জন্তুর মন্তরে! এবার মজুরি-পেনশনের দাবিতে প্রতিবাদ শ্রমিকদের

দিল্লির জন্তুর মন্তর আবারও বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।(CITU) সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বা সিআইটিইউ-এর নেতৃত্বে এক লাখেরও বেশি শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু…
দিল্লির জন্তুর মন্তর আবারও বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।(CITU) সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বা সিআইটিইউ-এর নেতৃত্বে এক লাখেরও বেশি শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করবেন ১ ডিসেম্বর থেকে। অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৪২ হাজার টাকা, অবসরের পর ২১ হাজার টাকা পেনশন এবং পূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা এই দাবিগুলোই মূল।
কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিআইটিইউ-এর কর্ণাটক ইউনিটের সভাপতি এস. বরলক্ষ্মী জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ হাজার ট্রেন টিকিট ইতিমধ্যে কেনা হয়ে গেছে। দেশজুড়ে সংগঠন চলছে। এক লাখের বেশি শ্রমিক জন্তুর মন্তরে জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ মোদীর গদি কাড়ার এজেন্ডা! এদিকে আপ কে নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ ইন্ডিতেই
সিআইটিইউ-এর (CITU)দাবি, সরকারের শ্রম কোডগুলো শ্রমিকবিরোধী। এগুলো বাতিল করতে হবে। স্কিম শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাঁদের সাংবিধানিক সুবিধা দিতে হবে। অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৪২ হাজার টাকা এবং পেনশন ২১ হাজার টাকা নিশ্চিত করতে হবে। পূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ এবং সমান কাজের জন্য সমান মজুরিও তাঁদের দাবির অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শূন্য পদ পূরণ, জল-জমি-বনের সুরক্ষা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। সিআইটিইউ বলছে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন জরুরি।
জন্তুর মন্তরে এ ধরনের বড় বিক্ষোভ দিল্লির যানজট ও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশ ও প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে। তবে দাবি না মানলে ধর্মঘট চলতে থাকবে।
অসংগঠিত খাতের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির বড় অংশ। তাঁরা সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও পেনশন থেকে বঞ্চিত। সিআইটিইউ মনে করে, বর্তমান শ্রম নীতি তাঁদের আরও অরক্ষিত করে তুলেছে। তাই জাতীয় স্তরে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে। কর্ণাটক থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজ্যেও মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্রমিকরা উৎসাহ নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, এবারের আন্দোলন শুধু দাবি আদায়ের জন্য নয়, শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যের প্রতীকও।
দিল্লি প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। (CITU)তবে অতীতে এ ধরনের বড় বিক্ষোভে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জন্তুর মন্তর এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। সিআইটিইউ-এর নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যাবে না। ন্যূনতম মজুরি ও পেনশনের দাবি যৌক্তিক। মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে ৪২ হাজার টাকা মজুরি না হলে সংসার চালানো কঠিন। অবসরের পর পেনশন না থাকলে বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট বাড়ে।
আন্দোলন সফল হলে লক্ষ লক্ষ অসংগঠিত শ্রমিক উপকৃত হবেন। ব্যর্থ হলেও শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লির রাস্তায় শ্রমিকদের ঢল নামবে। জন্তুর মন্তর আবারও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠবে।



