মাসিক বেতনের ৫০% অগ্রিম, সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন প্রকল্প

কলকাতা: জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন ডিজিটাল Salary Advance Scheme চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি কর্মীরা চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা পরিবারের জরুরি খরচ মেটাতে আগাম বেতনের টাকা নিতে পারবেন। স্বল্পমেয়াদি এবং কয়েক মাসের কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য, এই দুই ধরনের সুবিধা থাকছে প্রকল্পে।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কর্মীদের যাতে চড়া সুদের বাইরের ঋণের উপর নির্ভর করতে না হয়, তা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রুপ A, B, C ও D-সহ সমতুল্য শ্রেণির নিয়মিত সরকারি কর্মীরা সুবিধা পাবেন।
মাসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম
প্রকল্পের প্রথম সুবিধাটি হল স্বল্পমেয়াদি Salary Advance। এর মাধ্যমে কোনও কর্মী তাঁর এক মাসের প্রাপ্য বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন। জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই টাকা ব্যবহার করা যাবে।
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, নেওয়া টাকা একই বেতন চক্রে অথবা তার পরবর্তী বেতন চক্রে ফেরত দিতে হবে। তবে ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৬০ দিন। সংশ্লিষ্ট সমঝোতাপত্র (MoU) অথবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে এই সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিলে কোনও সুদ, প্রসেসিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি কিংবা কনভিনিয়েন্স ফি দিতে হবে না। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি এই অগ্রিমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
তবে কর্মীর কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে দেরি হলে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত লেনদেন ফি নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারি দফতর অথবা Drawing and Disbursing Officer (DDO)-এর কারণে তথ্য দিতে দেরি হলে কোনও অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না।
৬০ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে টাকা ফেরতের সুযোগ
বড় অঙ্কের পরিকল্পিত খরচের জন্য থাকছে মাল্টি-মান্থ অ্যাডভান্সের সুবিধা। এই ব্যবস্থায় নেওয়া টাকা ২ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে কিস্তিতে ফেরত দেওয়া যাবে। তবে কোনও কর্মীর অবসরের নির্ধারিত তারিখের পরে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না।
এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ঋণদাতার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকার উপর। নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ মাসিক গ্রস বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাসিক কিস্তি বা EMI কোনওভাবেই কর্মীর গ্রস বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
ঋণ নেওয়ার আগে কর্মীরা সুদের হার এবং অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জের বিস্তারিত বিবরণ পাবেন। ডিজিটাল ঋণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনেই এই তথ্য জানানো হবে। কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি নেওয়ার পর প্রতি মাসে বেতন থেকে সরাসরি কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে।
কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে বা অবসর নিলে তাঁর বকেয়া ঋণের টাকা চূড়ান্ত পাওনা থেকে সমন্বয় করা যেতে পারে।
বাইক ও স্কুটার কেনার অগ্রিমের সীমাও বাড়ল
Salary Advance Scheme-এর পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের মোটরসাইকেল, স্কুটার এবং বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ি কেনার জন্য অগ্রিম দেওয়ার আর্থিক সীমাও বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার।
আগে নির্ধারিত সীমার পরিবর্তে এখন সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যাবে। তবে প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ তিনটি অঙ্কের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম হবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এই তিনটি মাপকাঠি হল:
- সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
- কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন।
- যে গাড়িটি কেনা হবে, তার সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য।
অর্থাৎ, নতুন নিয়মে সরকারি কর্মীরা জরুরি প্রয়োজনে বেতনের অগ্রিম নেওয়ার পাশাপাশি দু’চাকার গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বেশি আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে মাল্টি-মান্থ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে ঋণদাতার মূল্যায়ন, সুদের হার এবং কিস্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.



