উত্তাল বারুইপুর! ৩ থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা, তদন্তে SIT, গ্রেফতার ২

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ, গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু, সব মিলিয়ে রবিবার কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা (Baruipur Rape and Murder Case)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চলছে বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি।
বারুইপুর নাবালিকা খুনকাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ | Baruipur Rape and Murder Case
শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১২ বছরের ওই কিশোরী। তারপর থেকেই তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কিশোরীর পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন (Baruipur Rape and Murder Case) করা হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও সেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে। দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ গড়ে ওঠে। সূর্যপুর স্টেশনেও বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে সড়ক যোগাযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ ছিল যে একটি অটোয় করেই কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের জেরে এক যুবককে ধরে মারধর করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকেও ঘিরে আলাদা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবারই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার (Baruipur Rape and Murder Case) তদন্তে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে নাবালিকা খুনের মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন। এই নিয়ে মোট দু’জন গ্রেফতার হল। পাশাপাশি আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি নাবালিকার খুনের অভিযোগে, দ্বিতীয়টি গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবং তৃতীয়টি পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে।
নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেই কারণেই সোমবার সকাল থেকে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর টহলদারি চলছে।
ঘটনাকে (Baruipur Rape and Murder Case) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা দেখা গেছে। নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কিশোরীর বাবাকে ভবানী ভবনে ডাকা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরার ব্যবস্থা সরকারি কর্মীদের
বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ এবং মামলার পরবর্তী আইনি ধাপ আরও স্পষ্ট হবে (Baruipur Rape and Murder Case)।



