“এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে তৃণমূলই!”, হাইকোর্টে মমতাকে ‘চোর’ স্লোগানে সরব শমীক

সবদিক নিউজ: বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল শেষে বেরোনোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। এই ঘটনায় তৃণমূল বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেও, দিল্লি থেকে পালটা জবাব দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আইনজীবীদের এই বিক্ষোভ বিজেপির সংস্কৃতি না হলেও, গত এক দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই এই ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
খুনের বদলে খুন নয়
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য এদিন অত্যন্ত কড়া সুর বজায় রাখেন। তিনি সাফ জানান, “খুনের বদলে খুনের রাজনীতি আমরা বরদাস্ত করব না। রাজ্যে এবার থেকে প্রকৃত আইনের শাসন চলবে।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ৩ কর্মীকে বিজেপি নয়, বরং তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন নেতারা কেন ময়দানে না নেমে শুধু এসি ঘরে বসে বিবৃতি দিচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দল ও সরকার সম্পূর্ণ আলাদা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাজকর্ম নিয়ে শমীক এদিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। দল আর সরকার সম্পূর্ণ আলাদা। বিজেপি কোনওভাবেই সরকারের কাজকর্মে বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না।” সরকারের কাজ প্রশাসন চালাবে এবং দল তার সাংগঠনিক কাজ করবে, এই বিভাজন স্পষ্ট করে দেন তিনি।
নয়া বিজেপি কর্মীদের নিয়ে সতর্কবার্তা
গত ৪ মে-র পর থেকে যাঁরা হুজুগে বা আত্মরক্ষার তাগিদে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন, তাঁদের বিষয়েও এদিন কড়া অবস্থান নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, “৪ তারিখের পর যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁরা আমাদের কেউ নন। তাঁদের কোনও অশান্তি বা অরাজকতা দল বরদাস্ত করবে না।”
তৃণমূলের অভিযোগ ও হাইকোর্টের পরিস্থিতি মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে যখন চূড়ান্ত অস্থিরতা, তখন শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



