0%

এখন সবার গলা ব্যাথ্যা হচ্ছে কেন জানেন?

ভোরে বেরোনোর সময় হালকা শীত, দুপুরে রোদে গরম, সন্ধ্যায় আবার হিম হাওয়া। আবহাওয়ার এই লুকোচুরি খেলায় শরীর সবচেয়ে আগে সিগন্যাল দেয় গলায়। খুসখুসে গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট, কখনও কাশি—মরশুম বদল মানেই যেন গলার ওপর চোট। কিন্তু প্রশ্ন হল, হঠাৎ এমন কেন হয়?

চিকিৎসকদের মতে, মরশুম বদলের সময় বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্য ও তাপমাত্রার ওঠানামায় আমাদের শ্বাসনালির ভেতরের আস্তরণ শুকিয়ে যায়। গলার শ্লেষ্মা স্তর পাতলা হয়ে পড়লে ভাইরাস সহজে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রাইনোভাইরাস বা সাধারণ সর্দির জীবাণু এই সময় বেশি সক্রিয় থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তাপমাত্রা কমলে নাক-গলার প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয় ধুলো, পরাগরেণু ও দূষণ। শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে বাতাসে অ্যালার্জেন বেশ বেড়ে যায়। যাঁদের অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাঁদের গলায় জ্বালা ও ব্যথা বেশি হয়। অনেক সময় আবার ভাইরাস নয়, শুষ্ক হাওয়াই গলার ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে সব গলা ব্যথাই সমান নয়। যদি জ্বর, গায়ে ব্যথা, টনসিল ফুলে যাওয়া বা তিন-চার দিনের বেশি সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে তবে নিজে থেকে ওষুধ একেবারেই খাবেন না।

তাহলে বাঁচবেন কীভাবে?

পর্যাপ্ত উষ্ণ জল গলার শুষ্কতা কমায়। দিনে প্রচুর জল খান। দিনে বারবার গরম জলে নুন দিয়ে গার্গল করলে আরাম মেলে—এটি বহুদিনের পরিচিত ঘরোয়া পদ্ধতি।
ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন। বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করলে শুধু দূষণ নয়, ভাইরাসের ঝুঁকিও কমে। ঠান্ডা-গরমে হঠাৎ বদল এড়াতে গলায় পাতলা ওড়না বা মাফলার রাখতে পারেন।
খাওয়াদাওয়ায়ও নজর দিন। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন কমলালেবু, আমলকি, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুমও অত্যন্ত জরুরি—ঘুম কম হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, এমন প্রমাণ একাধিক গবেষণায় মিলেছে।
মরশুম বদল ঠেকানো যাবে না, কিন্তু প্রস্তুত থাকা যায়। গলার সামান্য খুসখুসকে অবহেলা করবেন না। বিপদ বুঝলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker