জাত তুলে অপমান! ফের আইনি জটে পলাশ

ভারতীয় ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana)-র সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর বড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছল (Palash Muchhal)। তাঁর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ করেছেন স্মৃতির শৈশবের বন্ধু বিদ্ঞান মানে।
সাংলির বাসিন্দা বিদ্ঞান মানের অভিযোগ, একটি আর্থিক বিবাদকে কেন্দ্র করে পালাশ তাঁকে জাতিগত কটূক্তি করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘নজরিয়া’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রজেক্টের জন্য বিদ্ঞান মানের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন পালাশ মুচ্ছল। মানের দাবি, ছয় মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ হবে এবং তাকেও ছবিতে একটি চরিত্রে সুযোগ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন পালাশ। ছবিটি মুক্তির পর বিনিয়োগের টাকা ও লাভ ফেরত দেওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু অভিযোগ, ছবির কাজ কখনও শুরুই হয়নি।
এরপর টাকা ফেরত চাইতে থাকলে পালাশ প্রথমে দীর্ঘদিন টালবাহানা করেন এবং পরে টাকা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। মানের দাবি, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর সাংলিতে দু’জনের মধ্যে বৈঠকের সময় পালাশ তাঁকে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে অপমান করেন।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বিদ্ঞান মানে বলেন, “ও আমাকে ছ’মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ও প্রতারক প্রমাণিত হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে এড়িয়ে যেতে থাকে। দেখা করতে গেলে জাতিগত অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে, যা ক্যামেরার সামনে বলাও যায় না। ওর মানসিকতা খুবই নোংরা।”
অন্যদিকে, এর আগেই বিদ্ঞান মানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন পালাশ মুচ্ছল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে তিনি জানান, তাঁর আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিথারের মাধ্যমে বিদ্ঞান মানেকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। পালাশের দাবি, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই আবার সামনে এসেছে পালাশ ও স্মৃতি মন্ধানার সম্পর্ক ভাঙার প্রসঙ্গ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে ভেঙে যায়। ২৩ নভেম্বর বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, স্মৃতির বাবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত হয়েছিল বলে জানা যায়। একই সময়ে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পালাশও, যার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: লাল গালিচায় ভারতীয় ফ্যাশনের জয়যাত্রা, রাজকীয় লুকে মাতালেন তারকারা
পরে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে পালাশ লেখেন, “আমি জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। ভিত্তিহীন গুজব নিয়ে মানুষের এমন প্রতিক্রিয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়, তবুও নিজের বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে আমি পরিস্থিতির মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও লেখেন,“সমাজ হিসেবে আমরা যেন যাচাই না করা গুজবের ভিত্তিতে কাউকে বিচার না করি। কারণ আমাদের কথাই অনেক সময় এমন ক্ষত তৈরি করে, যার গভীরতা আমরা বুঝতে পারি না।”
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর পালাশ ও স্মৃতি একে অপরকে ইনস্টাগ্রামে আনফলো করেছেন। এরপর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে আর কোনও মন্তব্য করেননি দুজনের কেউই।
আরও পড়ুন: ‘মানুষ তাঁদের ভালো বুঝেছেন’, করিমপুরে হারের পর ঠিক কী বললেন সোহম চক্রবর্তী?



