0%

‘দিদি দল তৈরি করেছে দিদিই শেষ করবে’, একুশে জুলাইয়ের পর বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বুধবার একুশে জুলাই (21st July) এর ভরা সভায় জনসমক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) ‘দীর্ঘ বক্তৃতা’ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপরেই নেত্রীর সাথে কথা কাটাকাটির পর তাঁর বক্তৃতা না শুনেই মঞ্চ ছেড়েছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ। কারণ হিসাবে প্রথমে শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও পরবর্তীতে একটি সংবাদ বৈঠক থেকে এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

একুশে জুলাই এর মঞ্চে ঐদিন একে একে সকলে বক্তৃতা দেওয়ার পর যখন তিনি মঞ্চে উঠেছিলেন তার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই মঞ্চে প্রবেশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তখন তাঁর বক্তব্যের মাঝেই অভিষেক গোটা মঞ্চ ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমি মঞ্চ বক্তৃতা দিতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই অভিষেক এলো। আসার পর সারা মঞ্চ ঘুরে বেড়ালো, হাততালি কুড়ালো। তার জন্য অমাকে তো পাঁচ সাত মিনিট আটকে থাকতে হয়েছে। একটা বক্তৃতা দেওয়ার সময় ওই ভাবে ঘোরা এটা তো একটা নর্মাল কার্টেসি। বক্তৃতা দেওয়া শেষ হওয়ার পর ঘুরুক না। পপুলারিটি দেখানোর জায়গা তো ওটা নয়, পরে দেখাতে পারতো। তার জন্য সাত মিনিট আমি থেমে গেলাম। এরপর আবার শুরু করলাম তারপর মমতা দি এল। তারপর তাঁকে দেখার জন্য স্বাভাবিকভাবেই লোকজন হইচই শুরু করল। এরফলে টোটাল ১০ থেকে ১২ মিনিট আমকে বক্তৃতা বন্ধ রাখতে হয়েছে।’

Kalyan Banerjee

এরপর মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই আবারো বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর বক্তৃতা শেষ হয়ে এলেও লোকজন চাইছিলেন তিনি আরও বলুন। অভিযোগ করে তিনি এদিন বললেন, মঞ্চ থেকে তিনি যখন নামছিলেন তখন নাকি খুবই অসম্মানজনক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বলেছিলেন, ‘এক ঘন্টা ধরে বক্তৃতা দিচ্ছ ?’

আরও পড়ুনঃ লাগছে না স্মার্ট মিটার, প্রতিমাসেই আসবে বিদ্যুতের বিল, বিধানসভা থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

জনসমক্ষে এইভাবে অসম্মানিত হয়ে সেদিন অবশ্য চুপ ছিলেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘আমি দিদিকে বললাম এসব কথা আপনার কানে কে দেয়? তখন পাশে তখন অভিষেক আর শোভনদেব বসে রয়েছেন। আমি উঠেছি বারোটা পঞ্চাশে আর এখন বাজে একটা দশ। একঘণ্টাটা হল কোথায়?’ একইসঙ্গে মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল নেতা এদিন বললেন, ‘এরকমভাবে পাবলিক হিউম্যালিটি তো ভালো লাগে না, দিনের পর দিন।’

নাম নিয়েই প্রকাশ্যে এদিন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এত বড় নেতা তখন এই দুমাস আড়াই মাস ঘুরলেন না কেন? শোভনদেবও যদি এত বড় নেতা হয় তিনিও আড়াই মাস ঘুরলেন না কেন?’ এমনকী তৃণমূল নেত্রীর বিরক্তি প্রকাশ করার প্রসঙ্গেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি বললেন, ‘দিদির অত ঘনঘন বিরক্ত হলে হবে না। দিদির যদি মনে হয় অভিষেক এসে বসে আছে কেন? এটা যদি দিদির বিরক্তের কারণ হয় তাহলে আমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া ভালো। শুধু অভিষেককে নিয়েই থাকুক দিদি তাহলে।’

তৃণমূল সুপ্রিমোকে বাংলার মানুষ আর তৃণমূল কর্মীদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেছেন, ‘বাংলার কোটি কোটি মানুষ, আর লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কারদের জন্য মমতা দি বাংলার নেত্রী হয়েছেন। কোন রক্তের সম্পর্কের জন্য মমতা দি বাংলার নেত্রী হননি। সেই লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী আমি। দিদিকে ভালোবাসি, দিদিকে সম্মান করি বলেই তো রাজনীতি করেছি।’

আরও পড়ুনঃ বাতিল ৭৪টি সম্প্রদায়, ওবিসি মামলায় বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

একইসাথে তাঁর আরও সংযোজন, ‘গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। আজ তো ছেড়ে দিয়ে আমি বাড়িতে বসে যেতে পারি। কি আসবে যাবে তাতে আমার? আমার জীবন যৌবন, আমার প্রফেশন, আমার সংসার সবই তো মমতাদির জন্য স্যাক্রিফাইস করেছি। আর যদি শুধু অভিষেক অভিষেক করে তাহলে তো প্রবলেম হয়ে যাচ্ছে আমাদের।’

একুশে জুলাই এর ঘটনার পর অনেকেই মনে করছেন বাকিদের মতো তৃণমূল সুপ্রিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বোধহয় দল ছেড়ে দেবেন। এ প্রসঙ্গে দিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘আমি ওই ৮০ জনের মতো আর কুড়ি জনের মতো নই। মানুষ আমাকে ভালবাসে এটা সবাইকে মানতে হবে। এতে কারোর কোন হিংসার কারণ নেই। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি করবো এবং দলে থেকেই করব ।এদের মত আমি নই, যে ৮০ জন ছেড়ে চলে গেছে, ২০ জন চলে গেছে, দরকার হলে দলের মধ্যে ঝগড়া করে হলেও করব।’

তবে দল না ছাড়লেও তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিন স্পষ্ট বার্তা ছিল, ‘দিদিকে বুঝতে হবে। দিদি যদি এখনো না বুঝতে চায় তাহলে দিদির দল তৈরি করেছে, দিদিই দল শেষ করবে। আর কিছু বলার নেই আমার।’

প্রসঙ্গত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত একথা সকলেরই জানা তবে এদিন অভিমান থেকে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, হ্যাঁ নেত্রীর সম্পর্ক ভালো, তেমনি নেত্রী আবার অনেক সময় দূরেও সরিয়ে দিয়েছে একথাও সত্যি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ও, ‘নেত্রীর সুসময়ের সময় আমি দূরে, নেত্রীর দুঃখের সময় আমি কাছে। ভিড় থেকে বিরক্তি পোকা শুরু করলেন নেত্রী সেই একই থিয়োরি আরম্ভ হয়ে গেল নেত্রীর।’

প্রকাশ্যে নাম নিয়েই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বললেন, ‘নেত্রীর সুখের সময়, অরূপ বিশ্বাস,ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই রয়েছেন। নেত্রীর খারাপ সময় তো আমি একা রয়েছি।’ এরপরেই বিস্ফোরক দাবি করে দিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘আরজিকরের সময় দলের মধ্যেই কোন নেতা মমতা দিকে চিফ মিনিস্টার থেকে সরাতে চেয়েছিল। এটা সত্য, এটা বাস্তব। সেদিন আমি আর কুণাল দিদির পাশে ছিলাম আর কেউ ছিল না।’

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker