0%

নতিস্বীকার মোদী সরকারের, সরে দাঁড়ালেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, যুব বিক্ষোভের বড়ো জয় – সবদিক

খবর অনলাইন ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক ঘটনার দায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে চলা যুব বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্তকে আন্দোলনকারীদের বড়ো জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিয়মমতো তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান এমন সময়ে পদত্যাগ করলেন, যার কয়েক ঘণ্টা পরেই আন্দোলনকারীদের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

– বিজ্ঞাপন –

এক্স-এ করা পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “যন্তর মন্তর এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিকে যাতে দেশবিরোধী শক্তি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেই কথা বিবেচনা করেই আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাঁদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, তাঁর পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি কোনও ভাবেই “দেশবিরোধী শক্তির” হাতিয়ার হতে দিতে চান না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার পরিবর্তে আইনি জটিলতায় ছাত্রছাত্রীদের জড়িয়ে পড়াও তিনি চান না।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মধ্যে উল্লাস দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি যুব সংগঠন। ভারতের যুবসমাজের ক্ষোভকে সংগঠিত করার লক্ষ্যেই এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দেশের বহু তরুণ-তরুণী মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর সরকার তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করেছে। পাশাপাশি ১৮টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশও সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের বিস্তার রোধ করা যায়।

গত সোমবার সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়া আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অভিযোগ অনুযায়ী পেলেট গানও ব্যবহার করে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি এক্স-এ লিখেছে, “ককরোচদের জয় হয়েছে… গণতন্ত্রের জয় হয়েছে!”

শনিবার সরকার ও আন্দোলনকারীদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সেই বৈঠক নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এর আগে শুক্রবারও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তখন সরকার জানিয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তারা শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চায়।

শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, আন্দোলনকারীরা আরও কয়েকটি দাবি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, আন্দোলনে যোগ দেওয়া কোনও বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে যেন ফৌজদারি মামলা না করা হয়। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের অন্যতম বড় বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই আন্দোলনকে দেখা হচ্ছে। চাকরির সংকট, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker