0%

পিছু ছাড়ছে না বিপর্যয়! ফের হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, ভেসে গেল বাড়িঘর-সেতু

সবদিক নিউজ:প্রকৃতির রুদ্ররূপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না নেপালের (Nepal)। ফের হড়পা বানের। (Flash Floods) জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল পাহাড়ি এলাকার জনজীবন। রবিবার সকালে বুড়ি গণ্ডকী (Budhi Gandaki River) নদীতে আচমকাই জলস্তর বাড়তে শুরু করে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পাথর, কাদা আর কালচে জলস্রোত মুহূর্তের মধ্যে নদীর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ সেই স্রোতের ধাক্কায় একাধিক বাড়িঘর ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি সেতুও। আচমকা নদীর জল বাড়তে দেখে প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন নদীর ধারের বাসিন্দারা। ঘটনার একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, প্রবল গতিতে এগিয়ে আসা জলরাশি কী ভাবে মুহূর্তের মধ্যে বাড়িঘর গ্রাস করছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কত জন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

ফের হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal), ভেসে গেল বাড়িঘর-সেতু

নেপালের (Nepal) গোরখা অঞ্চলের পাহাড় থেকে এই হড়পা বান নেমে এসেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে আচমকা এমন জলরোষ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভারী বৃষ্টির জেরে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য মেলেনি। রবিবার সকালে নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। বুড়ি গণ্ডকী নদীতে বানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্লাবিত এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিপর্যয়ের কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

 সৌদি আরবের পাশে ভারত! রিয়াদে বিমানবন্দরে হুথি হামলার কড়া নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

নেপালে বর্ষা ও পাহাড়ি নদীর আকস্মিক জলবৃদ্ধি নতুন ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গত ২৬ অগস্ট মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। ত্রিশূলী ও ভোটেকোশি নদীর জলস্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহু বাড়ি, দোকান, অফিস এবং সেতু ভেঙে পড়ে বা ভেসে যায়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষ প্রাণ হারান, আবার অনেকে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতেও প্রশাসনকে সমস্যায় পড়তে হয়। সেই বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তার মধ্যেই বুড়ি গণ্ডকী নদীতে নতুন করে হড়পা বান নেমে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আগের বিপর্যয়ের পর নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসনের কাজ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃত, নিখোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নিয়ে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। তবে ১৪৫৫ জনের মৃত্যু, ৫২৮৫ জনের নিখোঁজ থাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের সন্ধান না মেলার মতো পরিসংখ্যানগুলির বর্তমান সরকারি অবস্থান স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিব্বত অঞ্চলেও ওই সময় বিপর্যয়ে প্রাণহানির খবর সামনে এসেছিল। নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের খোঁজ পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বানের ঘটনা সামনে আসায় উদ্ধারকাজ, নিরাপত্তা এবং দুর্গতদের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Nepal devastated by flash floods again; houses and bridges washed away.

 জীবন গড়ার চাপেই ‘অসুস্থ’ হচ্ছে মন? স্কুলপড়ুয়াদের কেন বাড়ছে মানসিক চাপ? এল চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান

বুড়ি গণ্ডকীর এই হড়পা বান নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিকে আরও একবার সামনে এনে দিল। পাহাড়ি নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে বাসিন্দাদের হাতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় খুব কম থাকে। তার উপর পাথর ও কাদামিশ্রিত প্রবল স্রোত বাড়িঘর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং নদীর ধারে বা প্লাবিত এলাকায় না যাওয়াই আপাতত সবচেয়ে জরুরি। নতুন এই বিপর্যয়ে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে। এখন নজর উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে (Nepal)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker