0%

শীতে চুলকানির রহস্য কি? আর্দ্রতা ধরে রাখার কারণ, চিকিৎসা ও সহজ সমাধান জেনে নিন

শীতে চুলকানির রহস্য কি? কারণ ও সমাধান জেনে নিনছবির ক্রেডিট: কিঙ্গা ক্রজেমিনস্কা/মোমেন্ট/গেটি ইমেজ

শীতকাল (শীতকাল) ব্যাক-টান এবং আবরণের আরামের মতো, এর অপ্রীতিকর সঙ্গী হল চুলকানি হাত ও পা। শুষ্ক ত্বকের এই সমস্যা অনেকের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। আসুন বিস্তারিত জেনে নিই কেন এমন হয় এবং এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সমাধান কি।

শীতে কেন এই সমস্যা বাড়ে?

1. শুষ্ক বায়ু এবং আর্দ্রতার অভাব

প্রধান কারণ: শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। এই শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে দ্রুত পানি শুষে নেয়।

ফলাফল: ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের বাইরের প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ত্বক ফাটা বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

2. গরম জল ব্যবহার করা

ক্ষতিকারক অভ্যাস: শীতকালে আরামের জন্য আমরা প্রায়ই অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করি। যদিও গরম জল সাময়িক স্বস্তি দেয়, এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলকে ধুয়ে দেয়।

সংকট: এই প্রাকৃতিক তেল ত্বককে আর্দ্র রাখে। এটি চলে গেলে ত্বক আরও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, যা চুলকানির অন্যতম কারণ।

3. গরম কাপড় দিয়ে ঘষা

পশমী বা সিন্থেটিক: উলের ফাইবার এবং কিছু সিন্থেটিক কাপড় খুব রুক্ষ। যার কারণে সংবেদনশীল ত্বক ঘষতে শুরু করে বা জ্বলতে থাকে। এতেও চুলকানি হতে পারে।

খুব গরম: অতিরিক্ত গরম কাপড় পরার কারণে ঘাম হওয়া অ্যালার্জি বা চুলকানিও বাড়াতে পারে।

4. অন্যান্য চর্মরোগ বৃদ্ধি

শীতের শুষ্কতা একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ বাড়ায়।

উপরন্তু, স্ক্যাবিসের মতো সংক্রামক রোগের প্রবণতাও বেশি, যা শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় সহজেই বেঁচে থাকতে পারে।

চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে, আপনাকে আপনার জীবনধারায় কিছু ছোট পরিবর্তন করতে হবে:-

1. হাইড্রেটেড থাকুন (ময়শ্চারাইজিং গুরুত্বপূর্ণ)

গোসলের পরে, ত্বক কিছুটা স্যাঁতসেঁতে থাকা অবস্থায় একটি ঘন, তেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, মলম বা লোশন লাগান। গ্লিসারিন, শিয়া বাটার বা পেট্রোলিয়াম যুক্ত ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। যখনই ত্বক শুষ্ক মনে হয় তখনই ময়েশ্চারাইজার লাগান।

2. গোসলের অভ্যাসের পরিবর্তন

জল উষ্ণ হওয়া উচিত, গরম নয়: অত্যন্ত গরম জলের পরিবর্তে হালকা গরম জল ব্যবহার করুন। স্নানের সময় 5 থেকে 10 মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করুন। হালকা, চর্বিহীন এবং সুগন্ধিমুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।

3. পোশাক এবং পরিবেশ

সরাসরি পশমী কাপড় পরার পরিবর্তে নিচে নরম সুতির কাপড় পরুন। অতিরিক্ত উত্তাপ এড়াতে স্তরগুলিতে পোশাক পরুন। এমনকি শীতকালেও প্রচুর পরিমাণে তরল বা পানি পান করে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখুন। বাইরে যাওয়ার কমপক্ষে 30 মিনিট আগে এসপিএফ 15-30 যুক্ত সানস্ক্রিন লাগান, কারণ শীতের সূর্যের আলো ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে।

4. জরুরী ত্রাণ

যদি চুলকানি গুরুতর হয়, 5-10 মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে একটি ঠান্ডা, ভেজা তোয়ালে বা বরফের প্যাক লাগান।

শীতকালে হাত-পা চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, তবে এর কারণগুলো জানা থাকলে এবং সঠিক যত্ন নিলে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। ময়শ্চারাইজারের নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহার, গরম পানি পরিহার এবং ত্বক পরিষ্কার রাখা শীতের চুলকানি মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র। ঘরোয়া উপায়ে আপনার সমস্যার সমাধান না হলে, চুলকানি বাড়লে বা আপনি রাত জেগে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker