সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

AK Bangla Desk: নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় সরকারি খাসজমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি এবং বহু মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, শাহজাহান শেখ-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কৃষ্ণনগর সিজেএম আদালত। নাকাশিপাড়া থানাকে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর কৃষ্ণনগর আদালত চত্বরে লাড্ডু বিতরণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, গত ২৫ জুন কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর নাকাশিপাড়া থানার কাছে ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশ মেনে পুলিশের পক্ষ থেকে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়।
সোমবার ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর সিজেএম আদালতে মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে প্রধান বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ কুমার মণ্ডল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে মামলা রুজু এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন বলে দাবি মামলাকারীদের আইনজীবীর। শীর্ষেন্দু দাসের বক্তব্য, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি খাসজমি রয়েছে। ওই জমির লিজের মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, তারপরেও জমিটির একটি বড় অংশ থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকা থেকে কয়েক হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এর ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।
এই গোটা ঘটনার পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, প্রভাবশালীদের যোগ থাকার কারণেই সমস্ত কিছু জানা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আদালতের নির্দেশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মামলাকারী তথা নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা পরাশর মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী ওই এলাকায় বেআইনিভাবে গাছ ও মাটি বিক্রি করেছে। সরকারি সম্পত্তি হাতবদলের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। পরাশরের দাবি, এত বড় মাপের কাজ কয়েকজনের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই গোটা ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে এনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন মামলাকারীরা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এবার এফআইআর দায়ের করে অভিযোগগুলির তদন্ত করবে নাকাশিপাড়া থানা। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে কী প্রমাণ পাওয়া যায়, এখন সেদিকেই নজর।



