ফর্ম অসম্পূর্ণ বা নথি না থাকলেই তলব! SIR এর প্রথম দফার শুনানিতে কারা ডাক পাবেন? জানুন

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা একেবারে নির্ভুল করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই কাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এসআইআর (SIR)-এর শুনানি পর্ব। ইতিমধ্যেই বহু ভোটারের নথি সংগ্রহ ও আপলোড হয়েছে। এবার সেই নথি যাচাই এবং প্রয়োজনে শুনানির মাধ্যমে ঠিক হবে, কার নাম থাকবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়।
কাদের প্রথম দফার শুনানিতে ডাকা হবে?
ইতিমধ্যেই ‘সন্দেহজনক’ ভোটার কিংবা যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের ক্ষেত্রে নেই, তাঁদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করেছেন BLOরা। সেই নথি অ্যাপের মাধ্যমে আপলোডও করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আপলোড হওয়া নথি পাঁচ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব EROদের। আগামী মঙ্গলবার সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তবে তার আগেই শুরু হয়ে যাবে শুনানি। জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত ভোটার BLO মারফত নথি জমা দেননি, শুনানির প্রথম দিকেই তাঁদের ডাকা হবে। একইভাবে যাঁরা ইনিউমারেশন ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করেননি, তাঁরাও প্রথম দফার শুনানিতে ডাক পাবেন (SIR)।
এছাড়া যাঁদের নিজের বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের চোখে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদেরও ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই ক্ষেত্রে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। কারণ, ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের তালিকা আগেই BLOদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাম-পদবির গরমিল বা নথিগত সমস্যা BLO স্তরেই মিটিয়ে ফেলতে। দ্রুত সেই সমস্যা মিটে গেলে, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে নাও ডাকা হতে পারে।
ইতিমধ্যেই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা শুরু করেছেন EROরা। শুধু ইআরও নয়, সেই নথি খতিয়ে দেখবেন মাইক্রো অবজার্ভাররাও। অর্থাৎ, প্রতিটি নথি দু’বার করে যাচাই হবে। কমিশনের এক কর্তার কথায়, কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকাভুক্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও বৈধ ভোটার যাতে ভুল করে বাদ না পড়েন, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে (SIR)।
শুনানি পর্ব কীভাবে চলবে, তা নিয়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য ন’দফা নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া ডিজিটাইজড ইনিউমারেশন ফর্মের তথ্য যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যুর তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার মিল খতিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। ভোটারদের জমা দেওয়া নথি দাবি অনুযায়ী সঠিক কি না, তাও পরীক্ষা করবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালানো, ভোটার তালিকা তৈরির সময় কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি হচ্ছে কি না, তা দেখাও তাঁদের দায়িত্ব (SIR)।
এছাড়াও পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকদের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে প্রয়োজন হলে সাহায্য করতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারদের। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও), পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষকরা কোনও নির্দেশ দিলে, তা পালন করাও বাধ্যতামূলক। শুনানি শেষে কী তথ্য উঠে আসছে, তার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ১০০% রিফান্ড! কুয়াশার জেরে কতক্ষন ট্রেন লেট হলে ফেরত পেতে পারেন পুরো টাকা? জানুন রেলের নিয়ম
বুধবারই প্রায় ৪,৬০০ মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই ন’দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এসআইআর (SIR) শুনানির ফলাফলের উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে কি না। তাই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



