পেট্রোলে এবার থাকবে ২৫ শতাংশ ইথানল? তেল সঙ্কটের আবহে কী পরিকল্পনা ভারতের?

সবদিক নিউজ: এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় তথা মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার তার জ্বালানি কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। সূত্র অনুযায়ী, সরকার এখন পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের (Ethanol Blending) লক্ষ্যমাত্রা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার মতে, এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হল অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। মূলত, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী তেলের সাপ্লাই চেনকে ব্যাহত করেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এমতাবস্থায়, ভারত দেশীয় শক্তির উৎস এবং রিনুয়েবল এনার্জির ওপর দ্রুত মনোযোগ বাড়াচ্ছে।
পেট্রোলে ২৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (Ethanol Blending) পরিকল্পনা:
মেগা পরিকল্পনাটি কী: জানিয়ে রাখি যে, ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম ইতিমধ্যেই ভারতের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি সাশ্রয় হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের কোষাগার থেকে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়াও রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন আধিকারিকরা এই সীমা ২৫ শতাংশে বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। যদিও এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
গ্রাহকদের ওপর পড়বে কী প্রভাব: উল্লেখ্য যে, কিছু প্রযুক্তিগত বিবেচনার কারণে সরকার ২৫ শতাংশ মিশ্রণের দিকে সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। মূলত, বেশি পরিমাণে ইথানল মিশ্রণের ক্ষেত্রে গাড়ির ইঞ্জিনে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই, পুরোনো যানবাহনের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, গাড়ির মাইলেজের ওপর ইথানলের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যানবাহনের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়েও আধিকারিকরা সতর্ক রয়েছেন।
বড় সাফল্য ভারতের! হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করল DRDO
অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ চলছে: জানিয়ে রাখি যে, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত শুধু বায়োফুয়েলের ওপরেই নির্ভর করছে না, বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করছে। রাজস্থানের বারমের শোধনাগার চালু হয়েছে। এছাড়াও, নুমালিগড় শোধনাগারের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
পাক দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা! রয়েছেন শুভমানও, বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচে একী কাণ্ড?
এদিকে, মহারাষ্ট্রের শোধনাগার প্রকল্পের পাশাপাশি, গুজরাটেও এখন একটি নতুন শোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকার জরুরি পরিস্থিতির জন্য দেশের ‘স্ট্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’-এর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। যাতে গ্লোবাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি না হয়।



