Zeenat Aman: প্রেসক্রিপশন ড্রাগে আসক্তি, ভেঙে পড়েছিল সংসার, আত্মরক্ষার জন্যই এ-কাজ করেছিলেন জিনাত?

বলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী জিনাত আমান আজও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও স্পষ্টভাষিতার জন্য সমানভাবে আলোচনায় থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের অতীত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরছেন। এবার অভিনেত্রী ফিরে গেলেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময়ে- যখন একদিকে ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল বৈবাহিক সম্পর্ক, অন্যদিকে তিনি আবারও অভিনয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে ‘গাওয়াহি’ ছবির শুটিংয়ের একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে জিনাত জানান, ১৯৮৮ সালে ছবিটির কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় তিনি মাতৃত্ব, সংসার এবং নিজের পরিচয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। বড় ছেলে আজানের জন্মের পর তিনি ধীরে ধীরে অনুভব করতে শুরু করেন, তাঁর কল্পনার সুখী দাম্পত্য জীবন বাস্তবে ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
পোস্ট-পোল ভায়োলেন্সে উসকানি! পরম-স্বস্তিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
অভিনেত্রীর কথায়, “একসময় আমি পেশাগত জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলাম। পরে এমন একটা সময় এল, যখন ব্যক্তিগত জীবন থেকেই পালানোর প্রয়োজন অনুভব করি। শুধু মা বা স্ত্রী নয়, নিজের আলাদা পরিচয়টাকেও ফিরে পেতে চেয়েছিলাম।”
সেই কঠিন সময়ে দক্ষিণ মুম্বইয়ে মায়ের বাড়িতে ফিরে যান তিনি। তাঁর মা, নাতির দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। আর সেই সুযোগেই জিনাত অভিনয়ে ফেরার সাহস পান। ‘গাওয়াহি’ ছবিতে জাহ্নবী কৌল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। আইন র্যান্ডের বিখ্যাত নাটক ‘The Night of January 16th’ অবলম্বনে তৈরি এই কোর্টরুম ড্রামা ছিল তাঁর কেরিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শেখর কাপুর ও আশুতোষ গোয়ারিকরের মতো অভিনেতারাও।
জিনাত নিজের পোস্টে লেখেন, “এই ছবিটি শুধু একটি চরিত্র ছিল না, বরং আমার জীবনের এক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। তাই নিজেকে মাঝে মাঝে ‘কামব্যাক কুইন’ বলতেই ভালো লাগে।” তবে ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম তখনও শেষ হয়নি। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে জিনাত আমান স্বামী মাজহার খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, মাজহার ধীরে ধীরে প্রেসক্রিপশন ওষুধ এবং ব্যথানাশকে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন।
Jayjeet Bandyopadhyay: শিল্পীদের রাজনৈতিক পতাকার তলায় থাকা উচিত নয় : জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনেত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “আমি, এমনকি আমাদের সন্তানরাও ওঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি নিজেকে আর সাহায্য করতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে কিডনি বিকল হয়ে যায়।”
জিনাত জানান, সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলির একটি ছিল। “আমি যখন চলে যাই, তখনও ওর জন্য আমার অনুভূতি ছিল। কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না,” বলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে কিডনি বিকলের কারণে মাজহার খানের মৃত্যু হয়। তবে জীবনের সমস্ত ঝড়ঝাপটার মধ্যেও জিনাত আমান নিজের পরিচয়, আত্মসম্মান এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস কখনও হারাননি।



