কর্নাটকে নতুন যুগের সূচনা! ২৫তম মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ডিকে শিবকুমার, পাশে রাহুল গান্ধী

সবদিক নিউজ: সমস্ত জল্পনা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কংগ্রেসের নবনির্বাচিত পরিষদীয় দলনেতা ডিকে শিবকুমার (DK Shivakumar)। বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ বেঙ্গালুরুর লোকভবনের ঐতিহ্যবাহী গ্লাস হাউসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল থাবরচাঁদ গেহলট তাঁকে রাজ্যের ২৫তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। দক্ষিণ ভারতের এই মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন করতে সশরীরে হাজির ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে-সহ দেশের শীর্ষনেতৃত্ব।
ভোক্কালিগা মঠের সাধকের নামে শপথ, উপমুখ্যমন্ত্রী দলিত নেতা
৬৪ বছর বয়সী ডিকে শিবকুমার এদিন টুমকুর জেলার অত্যন্ত প্রভাবশালী ননভিনকর গঙ্গাধর অজ্ঝয়া ভোক্কালিগা মঠের সাধকের নামে মুখ্যমন্ত্রী পদের গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বের শপথ নেন। শিবকুমারের পাশাপাশি এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের প্রভাবশালী দলিত নেতা জি পরমেশ্বর। এর পাশাপাশি এদিন প্রথম দফায় মোট ১২ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এই নতুন মন্ত্রিসভায় ব্যাপক ভারসাম্য বজায় রেখেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকায় যেমন রয়েছেন মল্লিকার্জুন খড়্গের পুত্র প্রিয়াঙ্ক খড়্গে, তেমনই ঠাঁই পেয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্র, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেএইচ মুনিয়াপ্পা এবং প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা সতীশ জারকিহোলি। গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ইস্তফা দেওয়ার পরেই শনিবার সর্বসম্মতভাবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমারকে পরিষদীয় দলের নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়।
“দিল্লি নয়, রাজ্য রাজনীতিতেই থাকছি”, হুঙ্কার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে, ২০২৩ সালের রফাসূত্র (Formula) মেনে আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি যে এখনই মাঠ ছাড়ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ক্ষমতার এই হাতবদল নিয়ে তাঁর সটান মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও আমি সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকছি। তবে জাতীয় রাজনীতি বা দিল্লির অলিন্দে নয়, আমার মূল মনোযোগ থাকবে কর্নাটকের রাজ্য রাজনীতিতেই।”
কংগ্রেসের অন্দরের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে দুটি বড় ‘অফার’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ অথবা সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পোড়খাওয়া এই নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে তথা দিল্লিতে যাচ্ছেন না। শিবকুমারের এই সিংহাসন আরোহণ এবং সিদ্দারামাইয়ার সমান্তরাল অবস্থান আগামী দিনে কর্নাটক কংগ্রেসের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।



