“সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছেলেও শেষ!”, তারাতলার অভিশপ্ত গোডাউন কেড়ে নিল ভাটপাড়ার পাপ্পুকে

সবদিক নিউজ: তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে গুদাম ধসে পড়ার ঘটনা এবার শ্মশানের নীরবতা নামিয়ে আনল উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর, এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা পাপ্পু কুমার রজক। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই ধীরস্থির ও পরিশ্রমী যুবক। উল্লেখ্য, এই একই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বুধবারই প্রাণ হারিয়েছিলেন পূর্বাশা এলাকারই আরেক বাসিন্দা তথা পাপ্পুর প্রতিবেশী কৃষ্ণ চৌধুরী। তারাতলা কাণ্ডে ভাটপাড়ার একই পাড়ার দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান পাপ্পু কুমার রজক দীর্ঘদিন ধরেই রাজমিস্ত্রি ও বিভিন্ন বড় নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করতেন। সংসারের মূল রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনিই। বৃদ্ধ বাবা-মা ও পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতেই বিপজ্জনক জেনেও কলকাতার তারাতলার ওই ৫ তলা বাণিজ্যিক গুদাম নির্মাণের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ যখন হুড়মুড়িয়ে ছাদ ও লোহার বিশালাকার বিম ভেঙে পড়ে, তখন অন্যান্যদের সঙ্গে নিরেট কংক্রিটের নিচে পিষে যান পাপ্পুও। এনডিআরএফ (NDRF) ও সেনা আধিকারিকরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও শেষরক্ষা করা যায়নি।
“কাজের জায়গাই মরণফাঁদ হল!” উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও চাকরির দাবিতে সরব প্রতিবেশীরা
পাপ্পুর মৃত্যুর খবর ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর পরিজনরা। সংসারের একমাত্র প্রদীপ নিভে যাওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারের মুখে। প্রতিবেশীদের কথায়, “পাপ্পু অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল, কারও সাতে-পাঁচে থাকত না। কেবল জীবিকার তাগিদেই এই বিপজ্জনক কাজে গিয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মস্থলই যে ওর প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কে জানত!”
নিহতদের বাড়িতে বিজেপি নেতৃত্ব, কড়া শাস্তির দাবি
ভাটপাড়ার দুই শ্রমিকের এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েই নিহতদের বাড়িতে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি নেতা পিন্টু সিং-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। তাঁরা শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং সবরকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে দুই মৃত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। একই সঙ্গে, কাটমানির চক্করে কার গাফিলতিতে এই বেআইনি ও নিম্নমানের ৫ তলা গুদাম তৈরি হচ্ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষী প্রোমোটার ও পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন ভাটপাড়ার সাধারণ মানুষ।



