0%

Bank manager allegedly killed a woman in Durgapur

পরকীয়ার জের। তরুণীকে ‘খুনে’র পর টুকরো টুকরো করে স্যুটকেসে ভরেছিল ব্যাঙ্ক ম্যানেজার! সেই ঘটনায় আদালত দোষী সাব্যস্ত করল ওই ব্যক্তিকে। দুর্গাপুর মহকুমা আদালত ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমারকে এদিন দোষী সাব্যস্ত করেছে। আগামী কাল, মঙ্গলবার তাঁর সাজা ঘোষণার কথা। হাড়হিম করা ওই খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮ সালে। মৃতার নাম শিল্পা আগরওয়াল।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দুর্গাপুরের বেনাচিতির রূপালি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি ফোন পেয়েছিল পুলিশ। তদন্তকারীরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান লিফটের সামনে একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস রয়েছে। সেটি খুলতেই আতঙ্ক ছড়ায়। ওই স্যুটকেসের ভিতর টুকরো টুকরো করে এক তরুণীর মৃতদেহ রাখা ছিল। দেহে পচনও ধরেছিল। হাড়হিম করা ওই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দুর্গাপুর শহরে।

পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে মৃতার নাম শিল্পা আগরওয়াল। তিনি বাঁকুড়ার মেজিয়ার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে থাকতেন। শহরের স্টেট ব্যাঙ্কের মেজিয়া শাখায় ‘ব্যাঙ্ক বন্ধু’ হিসেবে কাজ করতেন ওই ২৮ বছর বয়সী তরুণী। সেই শাখারই ম্যানেজার ছিলেন রাজীব কুমার। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে সামনে আসে রাজীব কুমারের সঙ্গে ওই তরুণীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। রাজীব ওই আবাসনেই থাকতেন। তাঁর স্ত্রী দিন কয়েকের জন্য বাড়ি ছিলেন না। সেসময় ওই ফ্ল্যাটে তরুণীকে ডাকা হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে ‘খুন’ করা হয়। দেহ টুকরো করে স্যুটকেসে ভরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এদিকে দেহাংশেও পচন ধরেছিল। শেষপর্যন্ত দেহাংশ ওই স্যুটকেসে ভরে লিফটের সামনে ফেলে রাখা হয়েছিল!

দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে এই খুনের মামলা শুরু হয়। মামলার তদন্তে ফরেনসিক রিপোর্ট, সাক্ষীদের বয়ান এবং একাধিক পরিস্থিতিগত প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করা হয়। ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছিল। পুলিশ নির্দিষ্ট সময় চার্জশিটও আদালতে দায়ের করে। দীর্ঘ সময় মামলা চলার পরে এদিন অতিরিক্ত জেলা বিচারক দ্বিতীয় প্রশান্ত চৌধুরী অভিযুক্ত রাজীব কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker