ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, বারাণসীতে রাহুলের নামে দায়ের এফআইআর

AK Bangla 24×7 Digital: হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি-সহ তিন সাংসদের বিরুদ্ধে বারাণসীতে এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাহুলের পাশাপাশি অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এবং পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদবের নামও মামলায় রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বারাণসীর একদল সাধু-সন্ত ও আইনজীবী তিন সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। কাশী জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯, ৩০২ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিরোধী সাংসদদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ধর্মীয় প্রতীক ও ভাবাবেগকে অসম্মান করা হয়েছে।
শুধু বারাণসী নয়, রাহুল গান্ধি, পাপ্পু যাদব, অবধেশ প্রসাদ, ডিম্পল যাদব এবং ধর্মেন্দ্র যাদবের বিরুদ্ধে দেশের আরও কয়েকটি থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সব অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক ভাবে মামলা রুজু হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিতর্কের সূত্রপাত শুক্রবার সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ঘিরে। সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বে মকরদ্বারের সামনে একটি দানপাত্র রেখে রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। তাঁদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল।
প্রতিবাদের সময় পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব গেরুয়া পোশাক পরে, কপালে তিলক ও গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করে সাধুর সাজে সেখানে উপস্থিত হন। তাঁর হাতে রামলালার একটি ছবিও ছিল। এরপর পথনাটিকার ধাঁচে প্রতীকী প্রতিবাদ শুরু হয়।
রাহুল গান্ধি, ডিম্পল যাদব-সহ বিরোধী সাংসদেরা দানপাত্রে প্রতীকী ভাবে টাকা দিচ্ছিলেন। সেই সময় রাহুলের হাত থেকে টাকা নিয়ে তা দানপাত্রে না ফেলে নিজের পকেটে রাখার অভিনয় করেন পাপ্পু যাদব। অভিযোগ, নাটিকা চলাকালীন তাঁর হাতে থাকা রামলালার ছবি মাটিতে পড়ে যায় এবং একসময় পায়ের সংস্পর্শেও আসে।
এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কোথাও গেরুয়া পোশাক পরে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ করা হয়েছে, আবার কোথাও রামলালার ছবি মাটিতে পড়ে যাওয়াকে ভক্তদের অপমান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন থানায় অভিযোগ জমা পড়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, সে দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



