আগুন সবজির বাজারে! দাম নিয়ন্ত্রণে কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় ইবি-পুলিশের অভিযান

AK Bangla 24×7 Digital: টানা বৃষ্টি ও সরবরাহে ঘাটতির জেরে রাজ্যজুড়ে সবজির দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। একই সবজি একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একাংশের ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ সামনে আসতেই রবিবার সকালে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেই বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। কলকাতার শ্যামবাজার, কোলে মার্কেট, গড়িয়া বাজার এবং যদুবাবুর বাজারে যান ইবির আধিকারিকেরা। শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার বাজারেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দল অভিযান চালায়।
রবিবার সকালে ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের একাধিক দল কলকাতার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, প্রতিদিন দামে কতটা পরিবর্তন হচ্ছে এবং পাইকারি ও খুচরো দামের মধ্যে কতটা ফারাক রয়েছে—তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।
ইবির এক আধিকারিক জানান, বাজারভেদে যাতে অস্বাভাবিক দামের পার্থক্য না থাকে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। কোনও বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম নিলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জেলার বাজারগুলিতেও একই ভাবে অভিযান চলে। পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়া বাজার ও কোলাঘাট এলাকায় সবজি বাজার এবং সারের দোকানে আচমকা পরিদর্শনে যান ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা ও পূর্ব পাঁশকুড়ার বিধায়ক। আলু, পেঁয়াজ-সহ বিভিন্ন সবজি নির্ধারিত ও ন্যায্য দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
এরপর স্থানীয় ফলের বাজার এবং সারের দোকানগুলিতেও যান আধিকারিকেরা। কৃষকদের কাছ থেকে সারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের কাছারি বাজারেও অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। তাদের সঙ্গে ছিলেন বারুইপুর থানার আইসি, পুরসভা এবং বিডিও দপ্তরের আধিকারিকেরা। নদিয়ার শান্তিপুর-সহ রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি বাজারেও নজরদারি চালানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, কয়েক দফার টানা বৃষ্টিতে সবজির উৎপাদন এবং পরিবহণ দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে। সেই কারণেই প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন সবজির দাম বাড়ছে। তবে পাইকারি ও খুচরো বাজারের দামের বিপুল ফারাক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইকারি বাজারে পটল ও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরো বাজারে তা ৫০ টাকার নীচে পাওয়া যাচ্ছে না। পেঁপে ও কুমড়োর দাম অধিকাংশ বাজারে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ছাড়িয়েছে। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও করলার দামও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। কাঁচালঙ্কা কোথাও কেজিপ্রতি ২০০ টাকা এবং টম্যাটো ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও সাধারণ মানুষের চিন্তা বাড়িয়েছে। হাঁসের ডিম প্রতিটি ১৪ থেকে ১৫ টাকা এবং পোলট্রি মুরগির ডিম জোড়াপ্রতি প্রায় ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসে সবজিভেদে কেজিপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষার সময় সাধারণত সবজির দাম কিছুটা বাড়ে। তবে পুজোর আগে বৃষ্টির পরিমাণ কমলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারদর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তার আগে পর্যন্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়মিত বাজার অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।



