পুলিশকর্তাকে ট্রাকে পিষে দিয়ে খুন! গজেন্দ্রকে গুলি করে হাসপাতালে পাঠাল পুলিশ

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় থানা ইনচার্জ দিলীপ পুরিকে (Dewas Police)ট্রাকের তলায় পিষে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধীদের খোঁজে নেমে পুলিশ একই রাতে দুটি…
মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় থানা ইনচার্জ দিলীপ পুরিকে (Dewas Police)ট্রাকের তলায় পিষে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধীদের খোঁজে নেমে পুলিশ একই রাতে দুটি পৃথক সংক্ষিপ্ত এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্ত গজেন্দ্র ওরফে আক্কু রাঠোর এবং সহযোগী ধীরজকে পায়ে গুলি করে আটক করেছে। এই ঘটনা রাজ্যের অপরাধী ও মদ মাফিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১ নভেম্বর রাতে। খাটেগাঁও থানার প্রধান দিলীপ পুরি অবৈধ মদ পরিবহনের খবর পেয়ে হার্দা-নেমাওয়ার হাইওয়েতে একটি ট্রাক থামান। ট্রাকটিতে প্রায় ১৮০০ লিটার অবৈধ মদ ছিল। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং ট্রাকের চাকা দিয়ে পুরিকে পিষে ফেলে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ বুড়িমারী সীমান্তে হঠাৎ নিভল আলো! ভারতে পুশ-ইনের চেষ্টায় উত্তেজনা
মূল অভিযুক্ত গজেন্দ্র ওরফে আক্কু রাঠোর আলিরাজপুর থেকে পালিয়ে ছিলেন। পুলিশ তাঁকে আটক করে দেওয়াসে নিয়ে আসার সময় বারোথা থানা এলাকায় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।(Dewas Police) এক পুলিশ কর্মীর রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালালে পুলিশ আত্মরক্ষায় জবাবি গুলি চালায়। গজেন্দ্রের পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই রাতে সহ অভিযুক্ত ধীরজকেও আলাদা জায়গায় আটক করার সময় তিনিও পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিসের গুলিতে পায়ে আহত হন।
দেওয়াস এসপি আদিত্য মিশ্র জানিয়েছেন, পুলিস নিয়ম মেনে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্তরা হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। তাই জবাবি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুজনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।(Dewas Police) তিনি দিলীপ পুরির পরিবারকে এক কোটি টাকা সহায়তা ও স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সংগঠিত অপরাধ ও মদ মাফিয়ার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযানকে দেখা হচ্ছে। পুলিস বলছে, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
দিলীপ পুরি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিসের এই দ্রুত ব্যবস্থা অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। একই রাতে দুই অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে আহত করে আটক করা পুলিসের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে অবৈধ মদ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখন আরও কঠোর হচ্ছে। গজেন্দ্র ও ধীরজের ঘটনা সেই ধারারই অংশ। পুলিস বলছে, তদন্ত চলছে এবং অন্যান্য সহযোগীদেরও খোঁজা হচ্ছে।



