0%

পথ দেখাল ভারতই? ২০০ বছরের ছুঁৎমার্গ কাটিয়ে প্রথম সমকামী সেনেটর পেল আমেরিকা

সমকামিতাকে খানিকটা অপরাধের চোখে দেখতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিডটার্ম নির্বাচনের আগে প্রচারের সময়ে সমকামীদের কটাক্ষও করেছেন প্রকাশ্যে। কিন্তু সেই প্রচার দাগ কাটতে পারল না মার্কিন জনমানসে। ইতিহাস গড়ে মার্কিন সেনেটের প্রথম সমকামী সদস্য হলেন ক্রিস পেপাস। নিউ হ্যাম্পশায়ার কেন্দ্র থেকে তিনি হারিয়ে দিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে।

পারিবারিক ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে পা রেখেছেন ৪৬ বছর বয়সি ক্রিস। রাজনীতিতে আসার আগে পরিবারের রেস্তরাঁতে কাজ করতেন তিনি। মার্কিন মুলুকে সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ হওয়ার পর বিয়ে সারেন ভ্যান বেন্টলির সঙ্গে। রাজনীতিতে আসার পর থেকে ক্রিসের পাশে সবসময় দেখা গিয়েছে ভ্যানকে। নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম সমকামী হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাসও রয়েছে ক্রিসের নামে। এবার প্রায় দু’শো বছরের ‘ছুঁৎমার্গ’ কাটিয়ে মার্কিন সংসদের উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হলেন ক্রিস, প্রথম সমকামী হিসাবে।

মার্কিন আইন সমকামীদের জন্য উদার হলেও সমাজ ততখানি নয়। বিশেষত ট্রাম্পের রিপাবলিক পার্টির তরফ থেকে একাধিকবার কটাক্ষ উড়ে এসেছে সমকামীদের দিকে। রাজনীতিতে এসে অন্যান্য ইস্যুর পাশপাশি সমকামীদের স্বার্থরক্ষাতেও কাজ করেছেন ক্রিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মানসিকতা দূর করার পক্ষেও একাধিকবার সওয়াল করেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন জয়ের পর ক্রিস বলেছেন, যেসব ধনকুবেররা দেশের অর্থনীতি তছরূপ করছে তারা আজ বড় ধাক্কা খেল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই ভারতের সংসদেও তৈরি হয়েছিল ইতিহাস। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেয় তৃণমূল। সঙ্গিনী অরুন্ধতী কাটজুকে সঙ্গে নিয়েই মনোনয়ন পেশ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। জয়ী হন তিনি। ভারতের প্রথম সমকামী হিসাবে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী সাংসদ হিসাবে সংসদে উচ্চকক্ষে মেনকার প্রবেশ এক ইতিহাস রচনা করে। এবার সেই একই দৃষ্টান্ত তৈরি হল মার্কিন মুলুকেও। অতীতে অবশ্য মার্কিন সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন এলজিবিটিকিউ জনপ্রতিনিধিরা। তবে তাঁরা কেউই ঘোষিতভাবে সমকামী নন।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker