ভারতের GPS ব্যবস্থায় বড় সাফল্য ইসরোর, কক্ষপথে পৌঁছল নেভিগেশন উপগ্রহ NVS-03

নয়াদিল্লি: বিদেশি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘নাভিক’ (NavIC)-কে শক্তিশালী করতে উৎক্ষেপণ করা উপগ্রহ…
নয়াদিল্লি: বিদেশি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘নাভিক’ (NavIC)-কে শক্তিশালী করতে উৎক্ষেপণ করা উপগ্রহ NVS-03-কে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দিতে সফল হল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। বুধবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, উপগ্রহটির কক্ষপথ পরিবর্তনের তৃতীয় তথা শেষ ধাপ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে সেটি নির্ধারিত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছেছে।
গত ৩০ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে GSLV-F18 রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল NVS-03। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে উপগ্রহটিকে একটি ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যায়ের কক্ষপথ পরিবর্তনও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরো। উপগ্রহটি এখন ৩৫,৮৪২.৬ বাই ৩৪,৫৯৪.৯ কিলোমিটার জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে রয়েছে।
কীভাবে কাজে লাগবে NVS-03?
NavIC-এর পুরো নাম Navigation with Indian Constellation। আমেরিকার GPS ব্যবস্থার মতো এটিও উপগ্রহ নির্ভর নেভিগেশন প্রযুক্তি। ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং দেশের সীমানা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নির্ণয় ও নির্ভুল সময়ের তথ্য দিতে পারে এই ব্যবস্থা।
স্মার্টফোন, গাড়ি, জাহাজ, ট্রেন-সহ বিভিন্ন যন্ত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে পথনির্দেশ, যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় এবং পরিবহণ ব্যবস্থার নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে NavIC।
তবে আগের কয়েকটি উপগ্রহের অ্যাটমিক ক্লকে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা ধাক্কা খেয়েছিল। পুরনো উপগ্রহের বিকল্প হিসেবে পাঠানো NVS-02-ও প্রপালশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। ফলে পূর্ণাঙ্গ নেভিগেশন পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সচল উপগ্রহের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটাতে NVS-03 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা?
NVS-03-এ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক রয়েছে। নির্ভুল সময় নির্ধারণের পাশাপাশি উপগ্রহটিতে অতিরিক্ত ক্লক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া L1 ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে সিগন্যাল পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। এর ফলে প্রচলিত স্মার্টফোনের চিপ এবং নেভিগেশন রিসিভারের মাধ্যমে NavIC-এর সিগন্যাল গ্রহণ করা আরও সহজ হতে পারে।
নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে বিদেশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের উপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি উদ্ধারকাজ, পরিবহণ, সমুদ্রপথে চলাচল, পরিকাঠামো পরিচালনা এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।
NVS-03 উপগ্রহটির আনুমানিক কার্যকরী আয়ু ১২ বছর। তবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছনোই পরিষেবা চালুর শেষ ধাপ নয়। উপগ্রহের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই এবং কমিশনিংয়ের কাজ এখনও বাকি। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই পূর্ণ মাত্রায় পরিষেবা দিতে পারবে NVS-03। ফলে ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থাকে ফের শক্তিশালী করার পথে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যোগী রাজ্যে ফের অপ্রীতিকর ঘটনা! শিবলিঙ্গে মাংস রাখার অভিযোগে গ্রেফতার মহম্মদ আনোয়ারউদ্দিন
অপারেশন সিঁদুরের পর প্রতিরক্ষা উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র নাগপুর! ৪৫০টি নাগাস্ত্র সেনার হাতে



