‘অনেক লোক ঘিরে ধরেছে’, অসমের নৃত্যশিল্পীর আতঙ্কিত শেষ মেসেজ, অন্ধ্রে রেললাইনের ধারে মিলল দেহ

নাচের দলের সঙ্গে অনুষ্ঠান করতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে গিয়েছিলেন অসমের ২০ বছরের তরুণী। শুক্রবার সকালে শ্রীকাকুলামে রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃতদেহ। বাড়ি ফেরার পথে ডিব্রুগড় স্টেশন থেকে বিবেক এক্সপ্রেসে ওঠার পর নিখোঁজ হন ওই তরুণী নৃত্যশিল্পী। মোবাইল ফোনে আতঙ্কিত শেষ মেসেজে পরিবারকে তিনি জানান, ‘অনেকগুলো লোক আমাকে ঘিরে ধরেছে’। প্রশ্ন উঠছে, যৌন নির্যাতন করেই কি হত্যা করা হয়েছে তরুণীকে? দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অসমের কামরূপ জেলায় বাড়ি আদিবাসী তরুণীর। গুয়াহাটির বি বুরোহ কলেজের ছাত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, নাচের দলের সঙ্গে এলেও গুয়াহাটিতে ১০ অক্টোবর বাঙ্কের নিয়োগ পরীক্ষায় বসবেন বলে আগেভাগে একাই বাড়ি ফিরছিলেন তরুণী। ৫ অক্টোবর শিলচর এক্সপ্রেসে ট্রেনের তৎকাল টিকিট কাটার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবার জানিয়েছে, টিকিট না মেলায় সেদিনই সরাসরি বিশাখাপত্তনাম স্টেশনে গিয়ে অসমগামী বিবেক এক্সপ্রেসে চেপে বসেন। রাত ১২টা বেজে ১০ মিনিটে ওই ট্রেন ছাড়ে। ৭ অক্টোবর সকালে ৯টা ৫-এ সেটিতে গুয়াহাটিতে পৌঁছানোর কথা ছিল নৃত্যশিল্পীর। তেমনটা ঘটেনি।
ট্রেনে থাকাকালীন নিহত তরুণী বারবার মেসেজ করে বন্ধদের জানান, ট্রেনে খুব ভিড়। তাঁর খুব ভয় করছে, কম্পার্টের অধিকাংশই পুরুষ। শেষ মেসেজেও জানান, অনেকে পুরুষ তাঁকে ঘিরে ধরেছে। তিনি ভয় পাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ৬ অক্টোবর রাত দেড়টা নাগাদ শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা হয় তরুণীর। পরিবারের দাবি আরও পরে রাত ২টা ৩৯ মিনিটে কথা হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
মেয়ের খোঁজ না পেয়ে তাঁর মা গুয়াহাটির রেল পুলিশে অভিযোগ জানান। রেলওয়ের ১৩৯ হেল্পলাইনেও খবর দেওয়া হয়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ বিবেক এক্সপ্রেসের এস২ কামরা থেকে তরুণীর ব্যাগ উদ্ধার করে। অন্যদিকে শ্রীকাকুলামের মালয়াপুরমের কাছে জঙ্গলঘেরা এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু, নাকি যৌন হেনস্থা।
রহস্য সন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজ ও তরুণীর মোবাইল ফোনের ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সূত্রে খবর, বিশাখাপত্তনম স্টেশনে তরুণীর সঙ্গে এক ব্যক্তিকেও দেখা গিয়েছিল। সেই কি কালপ্রিট? ওই ব্যক্তির সন্ধান শুরু করেছে আরপিএফ। এইসঙ্গে ময়নাতন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
শেয়ার
লিংক



