ঋতব্রত শিবিরে ফিরহাদ-অরূপ ! কালীঘাটের দল থেকে শোকজ করা হল মমতার ‘বিশ্বস্ত’ ছায়াসঙ্গীদের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে অস্থিরতা যেন দিনদিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। যে নেতাদের দীর্ঘদিন ধরে দলনেত্রীর (Mamata Banerjee) ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাঁদেরই একাংশ এখন আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক পরিচিত মুখ কালীঘাটকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। সেই আবহেই সোমবার এমন এক পদক্ষেপ সামনে এসেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।
কাদের শোকজ করল মমতার (Mamata Banerjee) তৃণমূল
নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে এদিন বৈঠকে মিলিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, জাভেদ খান-সহ বিভিন্ন জেলার প্রভাবশালী প্রতিনিধিরাও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তৃণমূলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে অরূপ রায়কে। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে কারা থাকবেন, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত কমিটি অনুযায়ী, চেয়ারম্যান বা চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন অরূপ রায়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিনের মধ্যে। দলের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবেন কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান।অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে জায়গা পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষ। পাশাপাশি জাতীয় কর্মসমিতিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান ও কাজল শেখকে।

আরও পড়ুন :মমতার মাস্টারস্ট্রোক! ঋতব্রতদের আটকাতে রাতারাতি বড় পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, এই উদ্যোগের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি অরূপ-ফিরহাদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। যাঁদের কাছে শোকজ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়, কসবার নেতা জাভেদ খান, উত্তর ২৪ পরগনার রথীন ঘোষ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিপ্লব মিত্র, হুগলির স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং মালদহের সাবিনা ইয়াসমিন। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংঘাত আগামী দিনে তৃণমূলের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




