কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ল, পদত্যাগের পথে আরও এক মেয়র পারিষদ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। দলীয় স্তরে একাধিক বিতর্ক ও পদত্যাগের আবহের মধ্যেই এবার কলকাতা পুরসভাতেও (Kolkata Municipality) নতুন করে চাপ বাড়ল শাসক শিবিরের উপর। সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পারিষদ মঙ্গলবার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন।
পুরসভায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) ভাঙন
গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার একাধিক পদাধিকারীর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথমে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষও পদত্যাগ করেন। একই দিনে মিউনিসিপাল অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম, যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট উত্তপ্ত। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের বহু নেতা প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তারই মধ্যে সই জালিয়াতি বিতর্ক নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের। উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এই অভিযোগ নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হন। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁদের সাসপেন্ড করে তৃণমূল। তবে সেই পদক্ষেপের পরও দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন কমার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “গত ৬ মে যে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তা আদৌ সত্যি নয়৷” তাঁর আরও অভিযোগ, “সেদিনের বৈঠকে শুধুমাত্র নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সব বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করতে বলা হয়েছিল৷” পাশাপাশি তিনি বলেন, “পরে ১৯ মে অন্য একটি বৈঠকে বিধায়কদের বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার জন্য সই করতে বলা হয়৷ কিন্তু ১৯ তারিখের বদলে সইয়ের নীচে ৬ মে তারিখ লেখার জন্য বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”

আরও পড়ুন : জুনের প্রথম সপ্তাহে কমল সোনার দাম! জানুন আজকের লেটেস্ট রেট
এদিকে, সই জালিয়াতি নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোট ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সিআইডি তদন্তে অন্তত তিনজন বিধায়ক স্বীকার করেছেন তাঁদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছিল। যদিও যাঁদের নাম এই বিতর্কে উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষর জাল হওয়ার অভিযোগ মানতে নারাজ। রাজ্যের রাজনীতিতে যখন এই বিতর্ক ঘিরে চাপানউতোর অব্যাহত, তখন কলকাতা পুরসভায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগের সম্ভাবনা তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।




