ধেয়ে আসছে গভীর নিম্নচাপ! জারি হাই-অ্যালার্ট

সবদিক নিউজ: দক্ষিণবঙ্গের তীব্র দহনজ্বালা জুড়িয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ— এখন রাজ্যজুড়ে শুধুই বরুণদেবের দাপট। দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির জেরে তপ্ত আবহাওয়া থেকে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন আপামর রাজ্যবাসী। তবে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এই স্বস্তি খুব দ্রুতই দুর্যোগে রূপ নিতে পারে। কারণ, আগামী ৪ থেকে ৮ জুলাই অর্থাৎ সপ্তাহান্তের দিনগুলিতে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ দানা বাঁধার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, এই নিম্নচাপটি ক্রমাগত শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে, যার জেরে উপকূলের জেলাগুলির পাশাপাশি কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ভ্রূকুটি তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশে মেঘের আনাগোনা, রোদের তেজও বেশ ম্লান। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিলোত্তমায় ইতিমধ্যেই ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি।
চলতি সপ্তাহ জুড়ে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির এই স্পেল জারি থাকবে। বিশেষ করে আজ ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে; বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে হলুদ সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। সপ্তাহান্তে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দুর্যোগের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে বাঁচতে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও প্রকৃতির তাণ্ডব অব্যাহত। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে লাগাতার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর এই যে, সপ্তাহান্তে যখন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তোড় বাড়বে, তখন উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।



