পাক সেনার বর্বরতায় স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব! PoK-তে গুলি করে হত্যা ১৬ জন প্রতিবাদীকে

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan occupied Kashmir) ফের অশান্ত। নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়ে অন্তত ১৬ জনকে হত্যা এবং আরও প্রায় ৩৭ জনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত কয়েকদিন ধরেই অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পাক সেনার বিরুদ্ধে জনরোষও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।
PoK- (Pakistan occupied Kashmir) তে গুলি করে ১৬ জন প্রতিবাদীকে হত্যা করল পাক সেনা
আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan occupied Kashmir) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী মত এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার জেএএসি ধর্মঘট এবং একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। সংগঠনের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতেই তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।
আরও পড়ুন: ‘সেনাবাহিনী মেয়েদের জন্য নয়’, সমালোচনা উপেক্ষা করে গ্রামের প্রথম মহিলা সেনা অফিসার হয়ে নজির সুনাইনার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ, কোনও রকম সতর্কতা ছাড়াই এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনায় এক চিকিৎসক, এক মহিলা-সহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। বহু মানুষ আহত হন। ঘটনার পর থেকেই অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি।
বৃহস্পতিবার নিহতদের স্মরণে এবং বিচার দাবিতে ফের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভ দমন করতেই আবারও গুলি চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হলেও পরে সরাসরি গুলি চালানো হয়। তাতেই অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী মত দমন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী হতেই বড় ফাঁস! তৃণমূল আমলের কোন ‘ভয়াবহ চিত্র’ সামনে আনলেন জগন্নাথ?
এদিকে অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan occupied Kashmir) পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জেরে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং কানাডার মতো দেশগুলি তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করেছে। ওই অঞ্চল ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আগামী দিনে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ক্রমশ ওই অঞ্চলের দিকে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।




