0%

পাঙ্গাস মাছ নিয়ে এত ভয় কেন? আসল সত্যিটা জানেন?

বাজারে গেলেই চোখে পড়ে বরফের উপর সারি সারি কাটা পাঙ্গাস মাছ। দাম কম, কাঁটা কম, রান্নাও সহজ। তাই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে এই মাছের দাপট কম নয়, বিশেষত বাঙাল বাড়িতে পাঙ্গাস মাছের চাহিদা প্রবল। কিন্তু ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কথা ঘুরছে পাঙ্গাস নাকি বিষে ভরা, নাকি এতে কোনও পুষ্টি নেই! আদৌ কি এটা সত্যি?

পাঙ্গাস মূলত চাষের মাছ। দ্রুত বাড়ে, তাই উৎপাদনও বেশি। আর সেই কারণেই দাম তুলনায় কম। তবে দাম কম মানেই গুণ কম, এটা ঠিক নয়। পাঙ্গাসে ভালো পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা শরীরের পেশি গঠন, কোষ মেরামতি এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যাঁরা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাঁদের জন্য এটি প্রোটিনের সহজ বিকল্প হতে পারে।
এতে কিছু পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও আছে। যদিও ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি নয়, তবু হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া পাঙ্গাসে আয়রন, ফসফরাসের মতো খনিজও থাকে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

তাহলে কেন এই মাছ নিয়ে বিতর্ক?

অনেক সময় মাছ দ্রুত বড় করতে চাষে অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি সঠিক নিয়ম না মানা হয়, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত খাবার খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি ওষুধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ বুজে বিশ্বাস নয়—বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকে মাছ কিনুন। খুব তাজা মাছ নিন, ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ বা ঝোলে রান্না করুন। অতিরিক্ত তেলে ভেজে খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি।

গর্ভবতী মহিলা বা শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে সঠিকভাবে রান্না করা পাঙ্গাস খাওয়া যায়। তবে প্রতিদিন একটাই মাছ খাওয়ার বদলে বিভিন্ন ধরনের মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। এই মাছ খেয়ে কোনওরকমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker