বিরাট নিশ্চিন্ত ছিলেন আমির, খাটে কফি ফেলে দিয়েছিলেন কাজল, কীভাবে তৈরি হয়েছিল ‘ফানা’?

২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফানা ( Fanaa )- যেখানে অভিনয় করেছিলেন আমির খান ও কাজল – আর কয়েক মাসের মধ্যেই পূর্ণ করতে চলেছে ২০ বছর। এই বিশেষ মুহূর্তে পরিচালক কুণাল কোহলি, ছবিটির স্মৃতি, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং সাহসী গল্প বলার দিকগুলি নিয়ে ফিরে দেখলেন।
‘মুঝসে দোস্তি কারোগে!’ ও ‘হাম তুম’-এর মতো রোমান্টিক ঘরানার ছবি করার পর ‘ফানা’ ছিল একেবারেই ভিন্ন স্বাদের। এখানে প্রেমের গল্পের কেন্দ্রে একজন সন্ত্রাসবাদী চরিত্র- যা সেই সময়ের বলিউডে খুব একটা দেখা যেত না। এই প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, “ফানায় নায়ক নায়ক নয়, তিনি একজন খলনায়ক। এটি একজন সন্ত্রাসীর প্রেমের গল্প। আর তাঁর কোনও পরিত্রাণ নেই। তিনি যে মহিলাকে ভালবাসেন এবং যে মহিলা তাকে ভালবাসেন, তিনিই তাকে গুলি করে হত্যা করেন।”
Sushmita: অতীতের আঘাত ভুলে নতুন জীবন, “মা” হওয়ার স্বপ্নে গাঁটছড়া বাঁধলেন সুস্মিতা
ছবির জন্য আমির খানকে নেওয়া নিয়ে প্রথমে কিছু দ্বিধা ছিল। প্রযোজক আদিত্য চোপড়া শুরুতে খুব উৎসাহী ছিলেন না। তবে কুণাল কোহলি দৃঢ় ছিলেন এই গল্প নিয়ে। অবশেষে আমির যখন গল্প শোনেন, তখনই তিনি আগ্রহ দেখান। কুণাল জানান, “তিনি প্রথম দিন থেকেই স্ক্রিপ্টটি পছন্দ করেছিলেন… আমি এক সপ্তাহের মধ্যে খসড়া লিখেছিলাম, যদিও পরে দুই সপ্তাহ পর তা শোনাই।”
আমিরের কাজের ধরন অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন। কুণালের কথায়, “তিনি বলেছিলেন, ‘না, আজ আমি আপনার এই সিনেমা করার বিষয়ে, ততটাই নিশ্চিত, যতটা আমি আশুতোষ গোয়ারিকরের লাগান করার বিষয়ে ছিলাম।’”
নায়িকা হিসেবে শুরু থেকেই কাজল-ই ছিলেন প্রথম পছন্দ। যদিও তাঁর ব্যস্ততার কারণে সন্দেহ ছিল তিনি রাজি হবেন কিনা। কিন্তু স্ক্রিপ্ট শোনার পরই সব বদলে যায়। কুণাল স্মৃতিচারণা করে বলেন, “আমি যখন কাজলকে স্ক্রিপ্ট শোনাচ্ছিলাম, তিনি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে কফি বিছানায় ফেলে দিয়েছিলেন… তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্ক্রিপ্ট পছন্দ। আমি করবই সিনেমাটা।’”
‘ফানা’ শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং স্টেরিওটাইপ ভেঙে তৈরি এক সাহসী সিনেমা- বিশেষ করে কাজলের অন্ধ চরিত্র ‘জুনি’ ছিল তার প্রমাণ। আজকের দিনে এমন গল্প তৈরি করা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্নে কুণালের আক্ষেপ স্পষ্ট- নতুন ও সাহসী বিষয় থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে মূলধারার বলিউড। দুই দশক পরেও ‘ফানা’ তাই শুধু স্মৃতির অংশ নয়, বরং একটি সময়ের সাহসী গল্প বলার প্রতীক।



