0%

ভয় ও আতঙ্ক ছড়াতে ‘ডক্সিং’ কৌশল আইএসআই-এর, নিশানায় সাধারণ নাগরিক থেকে আধিকারিক

নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) ভারতে কম খরচের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর কৌশল হিসেবে ‘ডক্সিং’ ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ নাগরিক, সরকারি আধিকারিক এবং নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইনে প্রকাশের মাধ্যমে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আইএসআই সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ফোন নম্বর, শারীরিক অবস্থান, ছবি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। এর জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যুবকদের নিয়োগ করছে এবং হ্যাকারদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, “ডক্সিং আইএসআই-এর নতুন অস্ত্র। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে সংস্থাটি যুবকদের নিয়োগে যথেষ্ট সময় ও অর্থ ব্যয় করছে।” তাঁর দাবি, সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে হুমকিমূলক বার্তা জুড়ে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই কৌশল ব্যাপকভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এক গোয়েন্দা ব্যুরো আধিকারিকের মতে, এটি ভারতে আইএসআই-এর বৃহত্তর প্রচারযুদ্ধেরই অংশ। একদিকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে তাঁদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি দুষ্টুমি বলে মনে হলেও এর পিছনে মানুষকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে বৃহত্তর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ থাকতে পারে।

আরেক আধিকারিকের দাবি, বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভারতীয় নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডেটা হ্যাক করার পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রকাশ্যে আনারও চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি জানান।

গোয়েন্দা আধিকারিকদের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে প্রথম এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিল আইএসআই। প্রথমদিকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের এবং পরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হয়েছিল বলে তাঁদের বক্তব্য। এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার একই কৌশল দেশের অন্যান্য অংশেও প্রয়োগের চেষ্টা চলছে বলে আধিকারিকরা দাবি করেছেন।

তাঁদের বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে প্রচলিত সামরিক সংঘাতে সাফল্য অর্জন করা কঠিন বুঝে পাকিস্তান এখন প্রচার ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। একই সঙ্গে, আইএসআই-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় সন্ত্রাসী মডিউল তৈরির প্রচেষ্টাও এখনও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি বলে গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য।

এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং কম প্রস্তুতিতে আতঙ্ক তৈরির লক্ষ্যে অনলাইন প্রচার ও ডক্সিংকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সামরিক আধিকারিক, সাংবাদিক, গবেষক এবং সরকারি আধিকারিকদেরও নিশানা করা হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এই ধরনের ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য শুধু ভয় তৈরি করা নয়। আইএসআই-নিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ বা পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও প্রকাশ্যে আনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ডক্সিংয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করাই এই কৌশলের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন এক আধিকারিক। তাঁর বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার তার পরিধি আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রয়োগের চেষ্টা হতে পারে।

—আইএএনএস

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker