যুবভারতী কাণ্ডে এবার মানহানির মামলা, জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ শতদ্রুর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের আগুন এখনও নিভেনি। সেই বহুচর্চিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসের(Jui Biswas) বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং তার ফলে নিজের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে জুঁই বিশ্বাসের কাছে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন শতদ্রু।
জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা শতদ্রুর (Satadru Dutta)
শতদ্রুর আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের দিন কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই একাধিক সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন জুঁই বিশ্বাস। নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিধিনিষেধও লঙ্ঘন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়েছে। আয়োজক হিসেবে শতদ্রুর সম্মানহানি হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য জুঁই বিশ্বাসকে কোনও পক্ষ থেকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে মেসির সঙ্গে সেলফি তুলছিলেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে জুঁই বিশ্বাস নিজেই ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রভাবেই অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত এলাকায় অনায়াসে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন জুঁই।
এই সমস্ত ঘটনার জেরে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন শতদ্রু দত্ত। সেই কারণেই ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে জবাব না মিললে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুঁই বিশ্বাস বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী হলেও বর্তমানে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। যুবভারতী কাণ্ডে এর আগেই অরূপ বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু। এবার সেই বিতর্কে যুক্ত হল মানহানির অভিযোগও।

আরও পড়ুন :কারা রয়েছে পর্দার আড়ালে? বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তদন্ত চাইলেন কুণাল ঘোষ
প্রসঙ্গত, এর আগে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করার কথা জানিয়েছিলেন শতদ্রু। যুবভারতীতে মেসি-সম্পর্কিত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তাঁকে প্রায় ৩৮ দিন জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে ওই ঘটনার নেপথ্য নিয়ে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনছেন। মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের আবহে এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ও আইনি মাত্রা পেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




